আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ন
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আপত্তি জানানোয় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ঐতিহ্যবাহী ‘পারিবারিক ছবি’ তোলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের বয়কট হুমকির মুখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সিদ্ধান্ত নেন।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধি রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে একই ফ্রেমে থাকতে অস্বীকৃতি জানান। ছবি তোলার ঐতিহ্যগত আয়োজন বাতিল করলেও সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মার্কো রুবিও বলেন, বিশ্ব এখন একটি সংকটময় সময় পার করছে এবং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বৈঠকের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে রুশ প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকলে তারা যৌথ ছবিতে অংশ নেবে না। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল বলেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে লাভরভের ছবি তোলার কোনো সুযোগ নেই, কারণ রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের কোনো পরিবেশ বিদ্যমান নেই। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও একই মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, তারা বেশ কয়েক বছর ধরেই রাশিয়ার সঙ্গে এ ধরনের সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলছেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে লাভরভের উপস্থিতিতেই রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের কড়া সমালোচনা করেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। তিনি এই যুদ্ধকে নিষ্ঠুর ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দেন। তার মতে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক মুখপাত্র জানান, ছবি বাতিলের মার্কিন সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করেন এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া হবে না।
আটলান্টার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে রাশিয়াকে পুনরায় সম্পৃক্ত করার মার্কিন উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যকার মতভেদের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীনই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার একটি চেষ্টা ওয়াশিংটন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, আলোচনা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুরু হলেও ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থানের কোনো পরিবর্তনের সংকেত পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি জি-২০-তে পোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তিতে রাশিয়ার আপত্তি এবং জোটের অন্যতম সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব অমীমাংসিত বিষয়ের কারণে বৈঠকের সমাপনী শেষে যৌথ ঘোষণা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
প্রথমবারের মতো বৈঠকে অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়া পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি জানান, চলমান যুদ্ধের পক্ষগুলো একই টেবিলে বসায় একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। তবে কিছু কূটনীতিক জানিয়েছেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আগামী মাসে ফ্লোরিডায় আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন সফল করার লক্ষ্য বজায় রাখছেন তারা। এবার ইউক্রেনকে আমন্ত্রণের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কেবল আনুষ্ঠানিক সদস্যদের রাখা হয়েছে, অন্যদিকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিরোধের কারণে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সূত্র: সমকাল

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।