শতভাগ নকলমুক্ত পরীক্ষার মহাকাব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শ্রেষ্ঠত্বের জয়গান: কুমিল্লা বোর্ডে চাঁদপুরের পশ্চাৎপদতায় শিক্ষার দার্শনিক চ্যালেঞ্জ

লেখক: জহির শাহ্, ব্রাক্ষণবাড়িয়া
প্রকাশ: ১ বছর আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার মাটিতে, যেখানে জ্ঞানের আলো অটুট সংকল্পে প্রজ্বলিত, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের সুবর্ণমুকুট পরেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অন্যদিকে, চাঁদপুর, যেন শিক্ষার এই মহাযজ্ঞে পশ্চাৎপদতার ছায়ায় ক্লান্ত, তালিকার নিচে অবস্থান করে শিক্ষার দার্শনিক চ্যালেঞ্জকে উন্মোচিত করেছে। ১০ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার দুপুরে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলামের কণ্ঠে ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যেন জ্ঞানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বোর্ডের পরিসংখ্যানের আলোয় উদ্ভাসিত এই চিত্র, শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতির এক মহাকাব্যিক প্রতিচ্ছবি। কুমিল্লা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৩.৬০ শতাংশ, কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬৯.২৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে দাঁড়িয়েছে, যেন জ্ঞানের তরবারি দিয়ে অজ্ঞতার অন্ধকারকে ভেদ করেছে। এই জেলার ২৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৩,৪৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৬,২৫১ জন বিজয়ী হয়েছেন, এবং ১,৪৭৫ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করে শিক্ষার আকাশে নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে। ফেনী, ৬৬.৬৯ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, যেখানে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬,৪৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০,৯৬৫ জন উত্তীর্ণ, এবং ১,১২৫ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে শিক্ষার মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার আলো ছড়িয়েছে। লক্ষ্মীপুর তৃতীয় স্থানে, ৬৫.৯৬ শতাংশ পাসের হার নিয়ে, যেখানে ১৭৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫,৭৬৩ জনের মধ্যে ১০,৩৯৮ জন উত্তীর্ণ, এবং ৮৫৮ জন জিপিএ-৫ পেয়ে শিক্ষার পথে নিজেদের অবদান রেখেছে। কুমিল্লা জেলা নিজেই চতুর্থ স্থানে, ৬৫.০৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে, যেখানে ৬০২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৭,৩৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭,৩০৮ জন উত্তীর্ণ, এবং ৪,২৮৫ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে বোর্ডের মধ্যে সর্বাধিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়েছে। নোয়াখালী পঞ্চম স্থানে, ৫৯.৭৫ শতাংশ পাসের হার নিয়ে, যেখানে ৩০২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৯,৯১৬ জনের মধ্যে ১৭,৮৭৬ জন উত্তীর্ণ, এবং ১,০৯৪ জন জিপিএ-৫ পেয়ে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের আলোর পথে এগিয়েছে। কিন্তু চাঁদপুর, ৫৫.৯২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার নিচে, যেন শিক্ষার এই মহাযজ্ঞে পশ্চাৎপদতার ছায়ায় ক্লান্ত। এই জেলার ২৮৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪,৬৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩,৭৮৩ জন উত্তীর্ণ, এবং ১,০৬৫ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা শিক্ষার সমান সুযোগ ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। ফলাফল ঘোষণার মুহূর্তে চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলামের কণ্ঠে ন্যায় ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি: “শতভাগ নকলমুক্ত পরীক্ষা আমাদের গর্ব, যা শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের মেধার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

এই ফলাফল শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতি, মেধার জয়, এবং পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে এক দার্শনিক সংগ্রামের প্রতীক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শ্রেষ্ঠত্ব যেন জ্ঞানের আলোর বিজয়, আর চাঁদপুরের পশ্চাৎপদতা এক নীরব আহ্বান, যা শিক্ষার সমতা ও সুযোগের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। এই মহাকাব্যিক ফলাফল জনজীবনের আশা ও চ্যালেঞ্জের এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে।