শিক্ষকদের ভুল চয়েসে লটারিতে বাদ পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে পাংশায়

লেখক: মোঃ হামজা শেখ
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

রাজবাড়ীর পাংশায় সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়ায় কৌশল অবলম্বন করছেন একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে অনেক শিক্ষার্থীর ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। তবে শিক্ষকদের দাবি—অভিভাবকরাই বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝছেন না। অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা দপ্তর।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণির প্রতি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। সে ক্ষেত্রে তিন শাখার একটি বিদ্যালয়ে মোট ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি আবেদন হলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে।

কিন্তু নীতিমালা জানা থাকার পরও অনেক শিক্ষক শুধু নিজ প্রতিষ্ঠানের নাম চয়েস দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করছেন। পাংশা উপজেলা সদরের বিদ্যালয়গুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে একটি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত আবেদন জমা পড়লেও শিক্ষার্থীরা লটারিতে বাদ পড়লে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ হারাবে।

একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষকরা ইচ্ছে করেই শুধু একটি স্কুল চয়েস দিচ্ছেন। এতে আমাদের সন্তান লটারিতে বাদ পড়লে আর কোনো স্কুলেই ভর্তি হতে পারবে না। একাধিক চয়েস দিলে এমন সমস্যার সৃষ্টি হতো না।”

জানা গেছে, পাংশা উপজেলা সদরে তিনটি বিদ্যালয় রয়েছে—এয়াকুব আলী চৌধুরী বিদ্যাপীঠ, কাজী আব্দুল মাজেদ একাডেমি ও পাংশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

এয়াকুব আলী চৌধুরী বিদ্যাপীঠে এ পর্যন্ত ১৯১টি আবেদন জমা পড়েছে। যার অধিকাংশেই শুধু নিজ প্রতিষ্ঠানের চয়েস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠান চয়েস দিয়েছি। ছেলেদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের মত অনুযায়ী করেছি।

পাংশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ১২১টি আবেদন জমা পড়েছে—সবগুলোই নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে। প্রধান শিক্ষক সান্তনা দাস বলেন, আমরা শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠান চয়েস দিয়ে আবেদন করেছি। শিক্ষা অফিসার আপত্তি জানানোর পর আমরা নতুন করে আর আবেদন করছি না।

কাজী আব্দুল মাজেদ একাডেমিতে ১১৮ জন আবেদন করেছে। এখানকার প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, “আমরা শুরু থেকেই একাধিক বিদ্যালয়ের চয়েস দিয়ে আবেদন করছি এবং অভিভাবকদেরও সচেতন করছি।”

পাংশা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে ইতোমধ্যে মিটিং করে বলা হয়েছে—আবেদনের সময় বাধ্যতামূলকভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় চয়েস দিতে হবে। এতে লটারিতে বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো চয়েসকৃত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে।