— বিজ্ঞাপন —

সরাইলে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা হানিফের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। রোববার (৮ নভেম্বর) সরাইল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি ইমাম হোসেনের ছেলে।
66526
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হনিফ আহমেদ সবুজের বিরুদ্ধে। হানিফ ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে টাকা নেওয়ার পর লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে ফেলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও অর্থ উদ্ধারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) সরাইল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে  এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি ইমাম হোসেনের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়িক সূত্রে সরাইল সদর এলাকার ছোট দেওয়ানপাড়ার বাসিন্দা হানিফ আহমেদ সবুজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে হানিফ আহমেদ সবুজ তাঁকে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, ২০১৮ সালে তাঁর ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিলে হানিফ আহমেদ সবুজ তাঁকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় মেঘনা নদীতে ভলগেট স্টিলের নৌকার ব্যবসা, ট্রলারের ব্যবসা, চিটাগাং বন্দরের বিভিন্ন ব্যবসা এবং মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসায় বিনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।

এসব ব্যবসায় লাভের আশ্বাসে বিশ্বাস করে পর্যায়ক্রমে মোট পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর দাবি, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্য লভ্যাংশ তো দূরের কথা, মূলধনের একটি অংশও ফেরত পাননি তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক সম্পর্কের একপর্যায়ে হানিফ আহমেদ সবুজ তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বললেও সেই অর্থও পরিশোধ করেননি। পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি হানিফ আহমেদ সবুজকে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক দেন। তাঁর অভিযোগ, এসব চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা তাঁর ব্যবসা ও প্রোপার্টির প্রয়োজনে উত্তোলন করা হয়। একপর্যায়ে হানিফ আহমেদ সবুজ তাঁকে ব্যবসায়িক কৌশলে জড়িয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক বিষয়ে সমঝোতার কথা বলে তাঁকে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর কাছ থেকে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও চেক নেওয়া হয়।

জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা সব চেকবই নিয়ে নেওয়া হয়। পরে গ্রামের বাড়ি রসুলপুরে ফেরার পর তিনি দেখতে পান, তাঁর সংরক্ষিত চেকবইগুলোও আর নেই। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যোগাযোগ করেন এবং চেকের পাতা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ নভেম্বর তাঁর কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ আসে। এরপর তিনি জানতে পারেন, তাঁর একটি চেক হানিফ আহমেদ সবুজের কাছে রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নতুন করে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার পর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাঁর বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এখন তিনি নিজের বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চান।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন কাতারে হানিফ আহমেদ তার মালিকের সাথে যোগসাজেস করে, ব্যবসা দখল করার লক্ষে জাহাঙ্গিরকে কাতার ছাড়া করেন। এসব প্রমাণের অডিও রেকর্ড তার কাছে আছে বলে সাংবাদিকদের জানান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলমের বাবা ইমাম হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে হানিফের প্রতি এমনভাবে অন্ধ বিশ্বাসে জড়িয়ে পড়েছিল যে, আমরা বারবার নিষেধ করলেও সে কারও কথা শুনত না। হানিফ যখনই টাকা চাইত, আমার ছেলে তা দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ত। এমনকি আমি নিজেও একাধিকবার হানিফের অফিসে গিয়ে তাঁর চাহিদামতো টাকা দিয়ে এসেছি। একপর্যায়ে আমার ছেলে তার স্ত্রীর সব স্বর্ণালংকার পর্যন্ত হানিফের হাতে তুলে দেয়।’

তবে জাহাঙ্গীর আলমের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হানিফ আহমেদ সবুজ বলেন জাহাঙ্গিরের সাথে আমার কাতারে যৌথ ব্যবসা আছে, সে আমাকে না জানিয়ে এই ব্যবসা এক ভারতীয়ের নামে কাগজ করে দিয়েছে, এ বিষয়ে আমার পাওনা পরিষদের জন্য সে আমাকে দেশে এসে চেক প্রদান করে, কিন্তু ব্যাংকে টাকা না থাকায় চেক ডিসঅনার হয়। আমি তাকে টাকা পরিষদেে জন্য  উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি,সময় মতো টাকা পরিষদ না করলে আমি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবো। দেশে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে যৌথ জাহাজ নিমার্ণ ও ব্যবসার কথা জিজ্ঞেস করলে হানিফ জানান দেশে তার সাথে জাহাজ তৈরিতে জাহাঙ্গীর পাটর্নার হতে চেয়েছিল কিন্তু টাকা না দেয়ায় তার সাথে কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি হয়নি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জীবনের নিরাপত্তা ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি জাহাঙ্গির।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗