সরাইলে হাট-বাজারে ভেজাল পণ্যের দৌরাত্ম্য, উদ্বিগ্ন ভোক্তারা

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৬ মাস আগে
সরাইলে হাট-বাজারে ভেজাল পণ্যের দৌরাত্ম্য, উদ্বিগ্ন ভোক্তারা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের দৌরাত্ম্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিশুখাদ্য, কসমেটিকস, মসলা, মিষ্টি, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যে ভেজাল মিশ্রণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিক লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কম মূল্যে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করছেন। ফলে সাধারণ ক্রেতারা অজান্তেই প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসনের ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো হলেও তা যথেষ্ট নয়। অভিযানে ধরা পড়া ব্যবসায়ীরা কিছুদিন সতর্ক থাকলেও পরে আবার পুরোনো অবস্থায় ফিরে যায়। এতে ভোক্তাদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

খাদ্যপণ্যে কাপড়ের ক্ষতিকর রং, ইট ও কাঠের গুঁড়া, সুজি, মটর ডালের গুঁড়া মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মাছ-মাংসে ফরমালিন ব্যবহার ও শাকসবজিতে বিষাক্ত রাসায়নিক স্প্রে করাও এখন নিত্যদিনের ঘটনা। শিশু খাদ্যেও নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের কারণে কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন ব্যবসায়ীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী বলেন, ভেজালকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান চলছে।

ভোক্তারা মনে করেন, নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলেই বাজারে ভেজাল পণ্যের দৌরাত্ম্য রোধ করা সম্ভব।