সোশ্যাল ভয়েস থেকে কর্তৃত্ববাদী শাসকের প্রচারক: লেব্রন জেমসের ভূমিকায় পরিবর্তন

সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিয়ে একসময় সোচ্চার থাকা বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস এখন অ্যাঙ্গোলার মতো দেশের কর্তৃত্ববাদী শাসকের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে ভূমিকা রাখছেন।
6959
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

খেলাধুলা ডেস্ক: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এবং সামাজিক ইস্যুতে সোচ্চার ক্রীড়াবিদ হিসেবে একসময় পরিচিত ছিলেন বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে মার্কিন রাজনীতিকদের তোপের মুখেও পড়েছিলেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেমসের সেই অবস্থান ও ভূমিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মের প্রচারণার পাশাপাশি অ্যাঙ্গোলার মতো একটি দেশের কর্তৃত্ববাদী শাসকের সাথে যুক্ত হয়ে তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাড়াতে সহায়তা করছেন জেমস। গত রবিবার অ্যাঙ্গোলার প্রেসিডেন্ট জোয়াও লুরেনসো তার প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব—লেব্রন জেমস এবং হলিউড তারকা উইল স্মিথকে স্বাগত জানান।

অফিসিয়ালি ইলেকট্রিক রেসবোট সিরিজ ‘ইওয়ান ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা অ্যাঙ্গোলা সফরে যান। এই সেলিব্রিটি-সমর্থিত রেসিং সিরিজে জেমস ও স্মিথ উভয়ই বিনিয়োগ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট লুরেনসো তাদের সঙ্গে অ্যাঙ্গোলার পর্যটন, সিনেমা এবং বাস্কেটবল খাতের প্রচার নিয়ে আলোচনা করেছেন।

আফ্রিকান বংশোদ্ভূত হিসেবে অ্যাঙ্গোলার মতো ঐতিহাসিক স্থানে সফর করার পেছনে জেমস ও স্মিথের যুক্তিসঙ্গত কারণও রয়েছে। ধারণা করা হয়, আমেরিকায় দাস হিসেবে নেওয়া আফ্রিকানদের প্রায় ৪৫ শতাংশই বর্তমান অ্যাঙ্গোলার বন্দর থেকে প্রেরিত হয়েছিল। জেমস এই সফরের অংশ হিসেবে ‘ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ স্লেভারি’ পরিদর্শন করেন এবং এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তবে এই সফরের মাধ্যমে দুজন তারকা এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সফ্ট পাওয়ার বা আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করছেন, যিনি নিজের দেশে দমনপীড়ন চালাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট লুরেনসো সম্প্রতি নাগরিক সমাজের ওপর নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বিতর্কিত আইন পাস করেছেন। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমতা দেওয়ার আইনও পাস করেছেন তিনি।

অ্যাঙ্গোলা সরকার বর্তমানে ক্রীড়া ও বিনোদন খাতে বড় আকারের বিনিয়োগ করে আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জনের যে চেষ্টা চালাচ্ছে, জেমস ও স্মিথের উপস্থিতি সেই কৌশল বাস্তবায়নে সহায়তা করছে। স্বৈরশাসক বা বিতর্কিত শাসকদের মাধ্যমে খেলাধুলাকে ভাবমূর্তি প্রসাধনী বা স্পোর্টসওয়াশিং হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা ক্রীড়াবিশ্বে নতুন নয়। উদাহরণস্বরূপ, লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ান রোনালদোও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সৌদি আরবের প্রচারে অংশ নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, লেব্রন জেমস চাইলেই নিজের সম্পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে লুরেনসোর মতো কর্তৃত্ববাদী শাসককে বৈধতা না দিয়ে সরাসরি অ্যাঙ্গোলার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারতেন। কিন্তু সোচ্চার অবস্থান ছেড়ে তিনি এখন বিতর্কিত ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠছেন।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Sport

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ