সৌদির মক্কা অঞ্চলে ১২৫ কিমি সোনার খনি আবিষ্কার

লেখক: রিয়াদ / মক্কা থেকে সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৫ মাস আগে
সৌদির মক্কা অঞ্চলে ১২৫ কিমি সোনার খনি আবিষ্কার

রিয়াদ / মক্কা থেকে সংবাদদাতা: সৌদি আরব সরকার এবং দেশের রাষ্ট্রীয় খনিজ অনুসন্ধান সংস্থা মাআদেন (Ma’aden) বুধবার ঘোষণা করেছে, মক্কার মানসুরামাসারাহ (Mansourah–Massarah) অঞ্চলে একটি বিশাল সোনার ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়েছে, যা প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক সম্ভাব্য “গোল্ড বেল্ট” নির্দেশ করে।

মাআদেনের দাবি অনুযায়ী, অনুসন্ধান পর্যায়ে উদ্ধার করা কয়েকটি খনন নমুনার পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি টন মাটিতে সর্বোচ্চ ২০. গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ (Au) পাওয়া গেছে — যা অত্যন্ত উচ্চ মানের ঘনীভূত খনিজ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই ফলাফল মাআদেনকে আশাব্যঞ্জক করে তুলেছে আরও ড্রিলিং এবং গভীর অনুসন্ধানের পরিকল্পনায়। আগত বছর পর্যন্ত মানসুরামাসারাহ খনিতে প্রমাণিত সোনার মজুদ প্রায় মিলিয়ন আউন্স ছিল।
এই খনির নামমাত্র উৎপাদন ক্ষমতা (nameplate capacity) ছিল প্রতি বছর ,৫০,০০০ আউন্স সোনা উত্তোলন করার পরিকল্পনা।

নতুন আবিষ্কারের ফলে এই মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণে বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে — খনি অধিবর্ধক (expansion) ও ভূগর্ভস্থ উত্তোলন (underground) পন্থায়।

খবরে আরও বলা হয়েছে, মক্কার কাছাকাছি ওয়াদি আলজাও (Wadi Al-Jaww)জাবাল শাইবান (Jabal Shayban) অঞ্চলে সোনা ও তামার (copper) খনিজের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এই নতুন অবস্থানগুলিতে গড় গভীরতা ২০ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত ড্রিলিং করা হয়েছে, এবং সম্ভাব্য খনিজ খনন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পথ তৈরি হচ্ছে।

মাআদেনের প্রধান নির্বাহী রবার্ট উইলে (Robert Wilt) এই আবিষ্কারকে একটি বৈশ্বিক স্বর্ণশৃঙ্খলকে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেছেন,

“আমরা খনির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করতে দ্রুত গতিতে ড্রিলিং কার্যক্রম চালাবো। এই আবিষ্কার সৌদি আরবকে বৈশ্বিক স্বর্ণ মানচিত্রে নতুন করে অভিহিত করবে।”

সৌদি অর্থনীতির বৈচিত্র্য আনয়নের লক্ষ্য (Vision 2030) অনুসারে, নতুন এই খনিজ খাত দ্রুত বর্ধমান একটি বিভাগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকার ও খনন কোম্পানিগুলি বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে বিশ্বের স্বর্ণ রপ্তানিতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় নিয়ে আসতে পারে — বিশেষ করে তখন, যখন বিশ্বের অনেক দেশ স্বর্ণ উত্তোলন ও রপ্তানিতে সঙ্কুচিত হচ্ছে।

নতুন খনিজ আবিষ্কার হলেও, তা বাস্তবে উত্তোলনযোগ্য এবং অর্থবহ ভাবেই রূপান্তরিত করার জন্য অনেক কাজ বাকি। খনন, পরিবহণ, পরিশোধন, পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব—all মিলিয়ে একটি জটিল প্রকল্প।
উল্লেখযোগ্য হলো, পুরো খনির মাপ, উত্তোলনযোগ্য অংশ, খরচ ও লাভোপায় — সব কিছুই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।