
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের শাপলাকলি প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
আটক যুবকের নাম ইসরাত রায়হান অমি (২৭)। তিনি হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দরোড বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হান্নান মাসউদকে ফেসবুকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডিটি করেন হান্নান মাসউদের চাচা ও এনসিপির হাতিয়া উপজেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজ।
জিডিতে মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তাঁর সহযোগীদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, তারা যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে। ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা সমবেত হয়ে হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।
হান্নান মাসউদকে হত্যার হুমকি: যুবক আটক
জিডির তথ্য অনুযায়ী, ‘ইসরাত রায়হান অমি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এনসিপির এক কর্মীর মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে হান্নান মাসউদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ওই বার্তার স্ক্রিনশটে দেখা যায়, বার্তায় বলা হয়েছে— “হান্নান বল আর তানভির বল, যেই নেতাই হোক—খোদার কসম করে বললাম, উত্তর অঞ্চলে চলাচল হারাম হয়ে যাবে। আমাদের নেতাকর্মীরা ডাইরেক্ট গিলে খেয়ে ফেলবে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে ‘রুপক নন্দী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টেও ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে সরাসরি হান্নান মাসউদকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়— “আগুন নিয়ে খেলা করো না, পরে পস্তাতে হবে।” একই পোস্টে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হলে হান্নান মাসউদকে হাতিয়ায় নিষিদ্ধ করার ঘোষণার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে শামছল তিব্রিজ বলেন, “আমরা সাতজনের নাম উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেছি। পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
আব্দুল হান্নান মাসউদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ন্যাক্কারজনক অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “অভিযুক্ত ইসরাত রায়হান অমিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
