৪০ বছরেও জোটেনি সরকারি ভবন, টিনশেডেই চলছে শতভাগ পাসের মাদ্রাসা
ফলাফলে খুলনা বিভাগে অনন্য সাফল্য অর্জন করলেও চার দশকেও একটি সরকারি ভবন পায়নি যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচ ভুলাট দাখিল মাদ্রাসা। জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। বৃষ্টি এলেই ছুটি, আর গরমে দমবন্ধ পরিবেশ—এভাবেই মানবেতর অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রায় তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হওয়া এই মাদ্রাসায় বর্তমানে ইবতেদায়ি থেকে দাখিল পর্যন্ত ৫৯২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ পাসের গৌরব ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানকার শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন এবং অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি পদে কর্মরত। অথচ সেই সফল প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত চিত্র অত্যন্ত করুণ।
মাদ্রাসাটিতে কোনো পাকা ভবন না থাকায় পুরনো ও ভাঙাচোরা টিনশেড কক্ষেই চলে ক্লাস। বর্ষাকালে চাল ফুটো হয়ে পানি পড়ায় বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় মেঘ দেখলেই দপ্তরি ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে দেন। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে টিনের ঘরে অসহনীয় গরমে ক্লাস করা দায় হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে সকালবেলা ক্লাস নিতে হয় কর্তৃপক্ষকে।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা খাতুন ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ হাসান জানায়, বর্ষাকালে ভিজে যাওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আসতে চায় না। জরাজীর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত একটি চারতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন দুরবস্থা চললেও সংশ্লিষ্টদের নজর পড়েনি প্রতিষ্ঠানটির দিকে। সীমান্তবর্তী এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে দ্রুত বহুতল ভবন নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আয়ুব আলী বলেন, “আমাদের কোনো পাকা শ্রেণিকক্ষ নেই। শিক্ষকদের বসারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। একটি ছোট রুমে ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী কষ্ট করে বসেন। অনেকে বারান্দায় বসতে বাধ্য হন।”
তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নির্মিত একটি ছোট ভবনে কেবল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়, যাতে বৃষ্টিতে নষ্ট না হয়। তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আকাশে মেঘ দেখলেই ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে মাদ্রাসা ছুটি দিতে হয়।
অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকটও। ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। শূন্য পদগুলো পূরণে এনটিআরসিএতে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সুলতান মাহমুদ বলেন, “মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার মতো কোনো পাকা ভবন নেই। বিদ্যমান টিনশেড কক্ষগুলোও ব্যবহার উপযোগী নয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাব।”
