ইসলামি ঐক্যজোর এর পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২নং (সরাইল) আসনে এমপি পদপ্রার্থী শায়খুল হাদীস মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) এর স্বাক্ষাৎকার

লেখক: দেলোয়ার হোসাইন মাহদী
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, সমাজ ও রাষ্ট্র চিন্তকদের মতামত তুলে ধরতে দেলোয়ার হোসাইন মাহদী’র সঞ্চালনায় পথিক টিভির ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজন “রাষ্ট্র ভাবনায় নবপ্রজন্ম”- এর ৩য় পর্বে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইসলামি ঐক্যজোট এর পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২নং (সরাইল) আসনের এমপি পদপ্রার্থী শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) :

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : আপনার নির্বাচনে আসার কারণটা কী ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : কুরআন ও হাদীসে রাজনীতির বিষয়ে অনেক দলীল রয়েছে। আমাদের আকাবীরগণ—শায়খুল আরবি ওয়াল আজম কুতুবুল আলম হুসাইন আহমাদ মাদানি (র.), ফখরে বাঙ্গাল আশরাফ আলী ধরমন্ডলী (র.), এবং আমার নেতা মুফতি আমিনী (র.)—রাজনীতি করেছেন। আমি তাদের উত্তরাধিকারী ও মুফতি আমিনী (র.)-এর ছাত্র। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল) আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন। তাই আমি তার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে ও নির্বাচনে এসেছি।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : এমপি নির্বাচিত হলে আপনার করণীয় কী হবে ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : ইসলামের অনেক কাজ রয়েছে যা সংসদে না গেলে করা সম্ভব হয় না। উন্নয়নমূলক কাজ—রাস্তা, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা নির্মাণ—এগুলো সংসদীয় ভূমিকার মাধ্যমেই সম্ভব। উলামায়ে কেরাম সাংসদ হলে জনগণ সুষ্ঠুভাবে সেবা পাবে, এলাকা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারমুক্ত থাকবে, ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। কোনো আলেম দুর্নীতি করতে পারে না—মুফতি আমিনী (র.)-এর সময় দুদক অনেক চেষ্টা করেও কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি। তাই উলামায়ে কেরাম সাংসদ হলে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : আগামী নির্বাচনে আলেমদেরকে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণ কতটা প্রস্তুত বলে আপনি মনে করেন ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : জনগণ প্রস্তুত আছে, কিন্তু আমরা নিজেরাই পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারছি না। ধর্মপ্রাণ মুসলমান চান উলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ হোক। মানুষ অতীতে লাঙ্গল, ধানের শীষ, নৌকা—সব প্রতীকেই ভোট দিয়েছে। এবার তারা আলেমদেরকেই ভোট দিতে চায়। তবে এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামা জরুরি, নইলে জনগণ আমাদের ধিক্কার দেবে।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : অন্যান্য বারের তুলনায় নির্বাচনে এবার আলেম সমাজের অংশগ্রহণ বেশি—এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : এটা ভালো লক্ষণ। অনেকেই বিভিন্ন আসন থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সবার মধ্যেই যোগ্যতা আছে, আলহামদুলিল্লাহ। তবে সবাই আলাদাভাবে দাঁড়ালে সফলতা আসবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে কওমী ঘরানার একজন প্রার্থী দাঁড়ালে সফলতা নিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : আপনার চোখে পিআর পদ্ধতির বাস্তবতা বা ভবিষ্যৎ কী ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : এটা জটিল বিষয়। অতীতে ছিল না। এতে যেমন উপকার আছে, তেমনি অপকারও আছে। এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলছি না—পরবর্তীতে বলবো, ইনশাআল্লাহ।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : সরাইল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের অনেকেই বলেন—মুফতি আমিনী (র.)-এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান। এ বিষয়ে আপনি কি বলেন ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : মুফতি আমিনী (র.) আমাদের আদর্শ ছিলেন। তিনি একাই এক দল সমান ছিলেন। ওনার ইন্তেকালের পর কেউ কেউ দল ছেড়ে গেছেন। মুফতি আমিনী (র.)-এর রেখে যাওয়া আমানত হলো ইসলামি ঐক্যজোট। এই দলে যারা আছেন, তারাই তার স্বপ্ন ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করতে পারবেন। যারা দলে নেই, তারা কেবল নামটিই ব্যবহার করছে।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : মুফতি আমিনী (র.)-এর স্বপ্নগুলো কী ছিল ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : ওনার দুনিয়াবি কোনো স্বপ্ন ছিল না। একটাই স্বপ্ন ছিল—সংসদে গিয়ে কুরআন ও হাদীসের পক্ষে কথা বলা, কুরআনবিরোধী কোনো আইন পাশ হতে না দেওয়া। তিনি ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের সাহসী নেতা। যেমন, ২০০১ সালে ফতোয়া বিরোধী আন্দোলনে দুই বিচারপতিকে নাস্তিক ঘোষণা করেন। সেই আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ জন শহীদ হয়েছিলেন।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : সরাইলকে নিয়ে তাঁর কোনো বিশেষ পরিকল্পনা ছিলো কি না ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : যদিও তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে, তবুও সরাইলের উন্নয়ন নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। তিনি রাস্তা, স্কুল-কলেজসহ অবকাঠামো উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন। তার কাছে দল-বেদল ছিল না—সবাই সমান। যেমন, সরাইল কালিকচ্ছের একটি হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি বলেছিলেন—“আমি আওয়ামী লীগ-বিএনপি বুঝি না; আমি এখানের এমপি, তাই সবার দুঃখ-কষ্ট বুঝতে হবে।”

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : প্রতিটি নির্বাচনে সরাইলের প্রতি আলেম সমাজের বিশেষ আকর্ষণ কেন থাকে ?

মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী (দা.বা.) : অতীতে এখানে অনেক মুরুব্বি কাজ করেছেন—ফখরে বাঙ্গাল (র.), আশরাফ আলী ধরমন্ডলী (র.), মুফতি আমিনী (র.), ফেনুয়ার হজরত আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন (র.), লুৎফুর রহমান বর্ণভী (র.), শায়খে দীঘলবাগী আব্দুর রহমান (র.) প্রমুখ। বর্তমানে খাজা রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী দা.বা., শায়খে কাটখালী দা.বা.সহ অনেক আলেম এখানে আসেন। এটি ইসলামের জন্য উর্বর জমিন। এখানকার নারী-পুরুষ সবাই আলেমপ্রিয়। এমনকি মুফতি আমিনী (র.) জেলে থাকাকালীন এখানকার অনেক নারী-পুরুষ তার মুক্তির জন্য রোজা রেখেছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই আলেমদের মনোযোগ সরাইলের দিকে থাকে।