ড্রেজার জ্বরে কাঁপছে শিমুলিয়া

লেখক: সুরেশ চন্দ্র রায়,
প্রকাশ: ৬ মাস আগে
শিবালয়ে ড্রেজার দিয়ে জমি ভরাট করে লাখো টাকা আয়, স্থানীয়দের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ঢাকিজোরা গ্রামের রেজাউল করিম ও ইউসুফ মুন্সির বাড়ির পশ্চিমপাশে নবেনের জায়গাসহ আশেপাশের জায়গা ভরাট করে কতিপয় ড্রেজার ব্যবসায়ী লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব ঢাকিজোরা এলাকার মৃত,কাজী আব্দুস সালামের ছেলে কাজী আহসান হাবীব টিটোন(ডিস ব্যবসায়ী) তার নিজ পুকুরে ড্রেজার বসিয়ে রায়পুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে সেলিম হোসেনের সহায়তায় টেপড়া এলাকার কালিবাড়ির পূর্বপাশে মোমরেজ খাঁর ছেলে নবীজ্জ্বল খার ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ নিরিবিলিভাবে ব্যবসা করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার উন্নয়নের অজুহাতে ড্রেজার ব্যবসায়ী সেলিম দাপটের সাথে ড্রেজার ব্যবসা করেছেন। সেলিম হোসেনের সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন পুকুর মালিক কাজী আহসান হাবীব টিটোন। তিনি তড়িঘড়ি করে নিজের পরিচয় দিয়ে সেলিম হোসেনকে নির্দেশ দেন ,উনারা যেটা পেয়ে থাকেন তাড়াতাড়ি দিয়ে দাও। টিটোনের নির্দেশ পেয়ে সেলিম হোসেন সাংবাদিককে কিছু টাকা দেয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালান। কিন্তু উৎকোচ দেয়ার চেষ্টায় সফল হতে পারেননি তিনি।

ড্রেজার মালিক মো.নবীজ্জ্বল খাঁ জানান, লোকজনের মাধ্যমে এসিল্যাণ্ড অফিসে প্রতিমাসে ২৫-৩০ হাজার এবং থানায় ৫-১০ হাজার টাকা দিয়ে ড্রেজার ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু এই টাকার কোন গ্যারান্টি নেই। ড্রেজারের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে প্রশাসনের লোকজন এসে ড্রেজার ভেঙে দিয়ে যায়। তাই খুব শান্তিতে নেই। অভিযোগের সুরে তিনি আরো বলেন, শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোঠাধারা এলাকায় লোকমান কাজী, পাড়াগ্রাম ও জামশা এলাকায় লুৎফর রহমান ও যমুনাবাদ এলাকায় রতন নিরিবিলি ড্রেজার ব্যবসা করছেন। তাদের ওখানে সাংবাদিক বা প্রশাসনের কোন ঝামেলা নেই। যত সমস্যা তার এখানে! যাহোক, সেলিম ভাই আপনাকে কিছু টাকা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু আপনি তা না নেয়ায় তিনি খুব কষ্ট পেয়েছেন। এ ব্যবসা করতে হলে সবাইকে ম্যানেজ করেই করতে হয় বলে তিনি তার পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে প্রতিবেদককে দেয়ার জন্য জোরালোভাবে চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনভাবেই তার প্রদত্ত টাকা গ্রহণ না করায় তিনি ভারাক্রান্ত মনে উঠে চলে যান।

কাজী আহসান হাবীব টিটোন বলেন,তার পুকুর থেকে মাটি উত্তোলন বাবদ তিনি প্রতি ফুট বালু বাবদ ৩টাকা, ড্রেজার মালিক নবীজ্জ্বল ৭টাকা এবং সেলিম ও এলাকার কিছু ছেলেপুলে মিলে ৩টাকা পায়। ড্রেজারের বিষয়ে যাবতীয় খরচাপাতির দায়িত্ব নবীজ্জ্বল বহন করে। টিটোন বারবার প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, তিনি ড্রেজার চালাবেন কিনা? এই অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার প্রতিবেদকের নেই বলা মাত্র তিনি ধমকের স্বরে সাংবাদিককে বলেন, তিনি চাইলে জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দিয়ে ফোন করাতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করাবেন না। তিনি ফকিন্নির পুলাপান না, এ ব্যবসা না করলে তার কিছুই হবে না। কিন্তু মনে রাখবেন, পৃথিবীটা গোল। একদিন ঘুরতে ঘুরতে তার কাছে যাওয়া লাগবে বলে সাংবাদিককে মোবাইলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শিবালয় থানা অফিসার ইনচার্জ মো.কামাল হোসেন জানান, এটি শুনেই তো অবাক লাগছে! একজন ড্রেজার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে থানা প্রশাসন টাকা নেবে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এধরণের মিথ্যা অভিযোগ দেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) জান্নাতুল নাইম প্রতিবেদককে জানান, এই ড্রেজার ব্যবসায়ী নিজে বাঁচার জন্য এধরণের অভিযোগ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) শিমুলিয়া ইউনিয়নের জামশা গ্রামে চলমান ড্রেজারে অভিযান চালিয়ে ড্রেজারের যন্ত্রাংশ বিনষ্ট করা হয়েছে। তবে, ড্রেজার মালিক পালিয়ে গেছেন। তার অফিসের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি ড্রেজার বাণিজ্য চালানোর চেষ্টা করেন তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এসিল্যাণ্ড। জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।