
বিশ্বখ্যাত সমুদ্রচলাচল বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউট’ ঘোষিত ২০২৫ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘লুডেক প্রাইজ’-এ রানার-আপ হয়ে বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছেন ক্যাডেট এমডি. মেহেদি হাসান। তিনি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী’র প্রাক্তন ছাত্র।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নটিক্যাল ইনস্টিটিউটের অফিশিয়াল ঘোষণায় বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হয়। প্রখ্যাত মাস্টার মেরিনার কাপ্তান ক্রিস্টফ ফার্দিনান্দ লুডেকের স্মরণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক শিক্ষায় মেধাবী ক্যাডেটদের এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এবারের আসরে ফিলিপিন্সের ম্যারিটাইম একাডেমি অফ এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের ক্যাডেট জন এমম্যানুয়েল এস্পিরিতু প্রথম স্থান অধিকার করেন। তার সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে যৌথভাবে রানার-আপ নির্বাচিত হন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ক্যাডেট এমডি. মেহেদি হাসান এবং ফিলিপিন্সের ক্যাডেট ড্যানি ক্রিশ্চিয়ান জুমায়াও।
পুরস্কার হিসেবে মেহেদি হাসান ১০০ পাউন্ড সমমূল্যের উপহার ভাউচার এবং তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়) ৫০০ পাউন্ড মূল্যের নটিক্যাল ইনস্টিটিউটের বই লাভ করেছে।
মেহেদি হাসান তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ২০২১ সালের আলিম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে সমুদ্রবিজ্ঞানের মতো আধুনিক ও চ্যালেঞ্জিং পেশায় আন্তর্জাতিক এ অর্জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় মেহেদি হাসান বলেন, এই স্বীকৃতি আমার পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিল। আমি বিশ্ব সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের সেবায় সততা নিয়ে কাজ করতে চাই। আমার এই সাফল্যের পেছনে মাদ্রাসার নৈতিক শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য।
মেহেদি হাসানের এই বৈশ্বিক অর্জনে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অঙ্গনেই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম।
দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিইও কাপ্তান জন লয়েড বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “লুডেক প্রাইজ জ্ঞান ও নেতৃত্বের সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে তুলে ধরে যা সমুদ্রচলাচলের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক।”
উল্লেখ্য, কাপ্তান ক্রিস্টফ ফার্দিনান্দ লুডেক ছিলেন একজন প্রখ্যাত সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ। তার পেশাগত সততা ও শিক্ষার প্রসারে গভীর বিশ্বাসকে ধরে রাখতেই এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারটি প্রবর্তন করা হয়েছে।
