নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ: জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি নারী নেত্রীদের

লেখক: Sanjida
প্রকাশ: ২ মাস আগে
নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ: জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি নারী নেত্রীদের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা।

আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এই দাবিতে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। নারী নেত্রীদের অভিযোগ, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে এ ধরনের বিদ্বেষী বক্তব্য কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধান স্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।

নির্বাচন ভবনে সিইসির সাথে সাক্ষাৎ শেষে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমজীবী নারীদের যে অসামান্য অবদান রয়েছে, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট থেকে করা মন্তব্যগুলো গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী ছিল। যদিও দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল, তবে নারী নেত্রীদের মতে একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এমন অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রামাণ্য তথ্য এখন পর্যন্ত না আসায় হ্যাকিংয়ের দাবিটি রহস্যজনক ও সন্দেহজনক হিসেবেই রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হ্যাকিংয়ের অভিযোগে ইতিপূর্বে একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবের কথা স্বীকার করা হয়েছে।

এমনকি গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালত এই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিনও প্রদান করেছেন। এমতাবস্থায় নারী নেত্রীরা মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

সিইসির কাছে পেশ করা আবেদনে নারী নেত্রীরা ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে—প্রকাশ্যে অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন বক্তব্য না দেওয়ার অঙ্গীকার।

সিইসির সাথে সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ এবং আইনজীবী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি সহ অন্যান্য সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

  • নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ: জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি নারী নেত্রীদের