
শহরের পাইকপাড়ায় পৌরসভার মালিকানাধীন রামকানাই পুকুরকে কেন্দ্র করে অবৈধ দখল ও উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পুকুরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং অবৈধ ভরাট অংশ উচ্ছেদের কার্যক্রম শুরু করে। পাশাপাশি পুকুরকে ঘিরে ভবিষ্যতে একটি সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ময়লা পরিষ্কারের পর পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে অবৈধভাবে ভরাট করা অংশ থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি অপসারণ করা হয়। তবে পুকুরের পূর্ব-উত্তর কোণায় ভরাট করে প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১২ থেকে ১৫ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুকুরের পূর্ব পাড়ে নির্মাণাধীন একটি ছয়তলা ভবনের বাসিন্দারা অবৈধভাবে এই রাস্তা তৈরি করেছেন।

পাইকপাড়ায় সরকারি পুকুর দখল ঘিরে উত্তেজনা, উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পৌরসভা যখন ওই ভরাট অংশ উচ্ছেদ করতে যায়, তখন ভবনের মালিক হিসেবে পরিচিত এক প্রভাবশালী নারী বাধা দেন। তিনি নাকি উচ্ছেদ না করে বরং সেখানে পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান, যাতে তার নির্মাণাধীন ভবনে যাতায়াত ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহন সহজ হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ওই স্থানে ছয়তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার কথা নয়। তবুও ভবনটি নির্মিত হচ্ছে, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যেখানে ভবন নির্মাণ নিয়েই আইনি জটিলতা থাকার কথা, সেখানে সরকারি পুকুর ভরাট করে রাস্তা তৈরির মতো ঘটনা কীভাবে ঘটছে?
এ ঘটনায় পৌর কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় আছেন পাইকপাড়ার বাসিন্দারা। সরকারি সম্পদ রক্ষা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত হবে কি না—সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে।
