শোকাতুর তেহরান: বিদায়লগ্নে প্রিয় নেতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি
বর্তমানে তেহরানের আকাশ-বাতাস এক গভীর শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন। গত শনিবার নিজ কার্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি আকস্মিক ও বর্বরোচিত হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাত বরণের পর পুরো দেশ এখন স্তব্ধ। প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার রাত ১০টা থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনী মোসাল্লা প্রাঙ্গণে শুরু হচ্ছে বিশেষ শোকানুষ্ঠান। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিদায় অনুষ্ঠান টানা তিন দিনব্যাপী চলবে, যেখানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই অপূরণীয় ক্ষতিতে ইরানের মন্ত্রিসভা দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য যে, ওই হামলায় শুধু সর্বোচ্চ নেতাই নন, প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে একদিকে যেমন শোকের মাতম চলছে, অন্যদিকে দানা বাঁধছে তীব্র প্রতিশোধের সংকল্প। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ শুরু করেছে, যার আওতায় ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।

শোকাতুর তেহরান: বিদায়লগ্নে প্রিয় নেতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি
অন্যদিকে, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন মোজতবা খামেনি। আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার নাম এখন মুখে মুখে। রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক অঙ্গনে তার প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। একদিকে নতুন নেতৃত্বের পদধ্বনি, অন্যদিকে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিশ্ব রাজনীতিতেও বইছে অস্থিরতার হাওয়া। তবে এই কঠিন সময়েও ইরানি জনগণ তাদের নেতার আদর্শকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় শপথ গ্রহণ করছে।
