জীবিত থেকেও ‘মৃত’ মমিনা বেগম, তিন বছর ধরে বন্ধ বয়স্কভাতা

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ১ মাস আগে
জীবিত থেকেও ‘মৃত’ মমিনা বেগম, তিন বছর ধরে বন্ধ বয়স্কভাতা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলিয়া গ্রামের ৮৯ বছর বয়সী মমিনা বেগম জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাতায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। ফলে গত তিন বছর ধরে তিনি বয়স্কভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ভাতাভোগীদের ভেরিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সে সময় মমিনা বেগম ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। যাচাইয়ের সময় তাকে বাড়িতে না পেয়ে তৎকালীন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বাবলী আরা তার নাম মৃত হিসেবে পৌর মেয়রের কাছে সুপারিশ করেন। পরে পৌর প্রশাসনের মাধ্যমে সেই কাগজপত্র উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হলে সরকারি তালিকায় তাকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তার বয়স্কভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে মমিনা বেগম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে তাকে জানানো হয়, সরকারি নথিতে তিনি মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত আছেন। এরপর তিনি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জীবিত থাকার প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো তার বয়স্কভাতা চালু করা হয়নি।

মমিনা বেগমের পুত্রবধূ আমিনা বেগম জানান, তারা খুবই দরিদ্র। বৃদ্ধা মমিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তিন বছর ধরে বয়স্কভাতা বন্ধ থাকায় তার চিকিৎসা ও খাবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাতা চালু হলে অন্তত ওষুধ ও খাদ্যের খরচ কিছুটা মেটানো সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সার্ভারে মমিনা বেগমকে মৃত দেখানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দ এলেই তার বয়স্কভাতা পুনরায় চালু করা হবে।

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তৎকালীন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বাবলী আরার সুপারিশের ভিত্তিতেই মমিনা বেগমকে মৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই কারণেই ভাতা যাচাইয়ের তালিকায় তাকে মৃত দেখিয়ে বয়স্কভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

  • জীবিত থেকেও ‘মৃত’ মমিনা বেগম
  • তিন বছর ধরে বন্ধ বয়স্কভাতা