সন্তান জন্ম দিয়েই মৃত্যু নবীনগরে প্রসূতির প্রাণহানি, ১১ লাখ টাকায় ‘মিটে গেল’ বিচার?

লেখক: রায়হান আহমেদ সোহান
প্রকাশ: ৬ দিন আগে

 বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা-এ এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে। অভিযোগ ওঠা ভুল চিকিৎসার ঘটনায় সামাজিক শালিসের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকায় সমঝোতায় পৌঁছেছে উভয় পক্ষ।
মৃত প্রসূতি রাকিবা আক্তার (২০) উপজেলার লাউর ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত শনিবার রাতে প্রসব ব্যথা নিয়ে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল-এ ভর্তি হন। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অপারেশনের কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার জেরে পরদিন সকালে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালায়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার রাতে স্থানীয়ভাবে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ১১ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ লাখ টাকা নবজাতক সন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে এবং বাকি ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা থাকলেও স্বামীর পরিবার তাদের অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকা প্রদান করেছে এবং অবশিষ্ট ৯ লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে।

শালিসে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই আর মামলা করতে পারবে না। পাশাপাশি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালটি নিজ খরচে মেরামত করবে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের শালিসের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে ঘটনাটির পাঁচ দিন পরও মামলা না হওয়াকে তিনি অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গাফিলতির প্রমাণ মিললে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া জানান, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। তদন্তে চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।