
গত মাসাধিককালের তীব্র তাপপ্রবাহ আর উষ্ণ আবহাওয়ার পর আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্ব ঘোষণা অনুসারে ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পর্যায়ক্রমিক বেশ কয়েকবার বজ্রপাতসহ ভারী বর্ষণ এবং কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কসবা, আখাউড়া ও নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গাছ ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-আগরতলা সড়কে যান চলাচল। জেলা সদর, পৌর এলাকা ও উপজেলা সদরগুলোর অধিকাংশ রাস্তা এবং নিচু অঞ্চলের নিম্ন এলাকার সড়কসমূহ হাঁটুর কাছাকাছি পর্যন্ত পানির নিচে মুহূর্তে তলিয়ে যায়। পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে বিপাকে পড়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তরপশ্চিমের আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে অন্ধকার নেমে আসে। এরপর শুরু হয় বজ্রপাতসহ কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত। নির্ভরযোগ্য সূত্র সমূহের তথ্য অনুযায়ী এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কসবা, আখাউড়া, নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ে, যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। তীব্র ঝড়ে আখাউড়া উপজেলার নারায়ণপুরে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কসবা উপজেলার মঈনপুর বাজারে বিদ্যুতের খুঁটি, গাছপালা, দোকানঘর ভেঙে গেছে। চরনাল গ্রামে মাদ্রাসার টিনের ঘর ভেঙে পড়েছে। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বড় একটি গাছ ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মসজিদের ওপর ভেঙে পড়েছে। এতে মসজিদটির ক্ষতি সাধিত হয়েছে। মঈনপুর বাজারে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। জেঠুয়া মোড়া এলাকায় গাছপালা, বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তিন লাখ পীর বাজার এলাকায় একটি মোবাইল ফোনের টাওয়ার ভেঙে পড়েছে। গুরুহিত মোল্লাবাড়িসহ আশপাশ এলাকায় ঘরবাড়ি এবং গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে।
কালবৈশাখী ঝড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, বটতলী, ভাদুঘর এলাকায় গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহরে রেললাইনে গাছ পড়ে অন্তত ২০ মিনিট ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। নবীনগর উপজেলার বিটঘর, কাইতলা, শিবপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গাছপালা উপরে ও ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সকাল ৯টার দিকে বিকট শব্দে বেশ কয়েকবার বজ্রপাতের পাশাপাশি তীব্র ঝড় ও ভারী বর্ষণ শুরু হলে ভোগান্তিতে বিপাকে পড়ে এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার্থীরা। ভারী বর্ষণের কারণে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। অনেক পরীক্ষার্থী বৃষ্টিতে ভিজে নাকাল হয়ে বিপাকে পড়েন। অপরদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পৌরবাসী।
জেলা সদরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং গভঃ মডেল গার্লস হাই স্কুল কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ফারহানা ববি ও সগির আহমেদ জানান, তীব্র শক্তির কালবৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টির কারণে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তি নিয়ে বিলম্বে কেন্দ্রে এসে পৌঁছায়। তারা এ পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানান।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব কেন্দ্রে বিলম্বে পরীক্ষার্থীরা পৌঁছেছেন, সেসব কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবদের বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া, যেসব স্থানে ঘরবাড়ি, গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেসব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
