
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দু/র্ঘটনায় গু/রুতর আ/হত হয়ে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কামাল মিয়া (আনুমানিক বয়স ৪০) নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মৃ/ত্যু হয়েছে। জীবনের শেষ সময়টুকুতে তিনি বারবার পরিবারের খোঁজ করলেও কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। অবশেষে মৃ/ত্যুর পর সদর মডেল থানার পুলিশ ও মানবিক সংগঠন “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর” এর উদ্যোগে তার ম/রদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ম/র্গে ময়নাতদন্ত শেষে ম/রদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নি/হতের দুই ভাই শাহিন ও জীবন এবং মামা ইব্রাহিম মিয়া উপস্থিত ছিলেন। তবে তার মা, স্ত্রী ও সন্তানরা সেখানে আসেননি।
নি/হত কামাল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের বড়হিত গ্রামের মৃ/ত সুলতান মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৯ মে) রাতে একজন যাত্রী নিয়ে নবীনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে আসছিলেন কামাল মিয়া। পথে বিরামপুর এলাকায় তার মোটরসাইকেল নি/য়ন্ত্রণ হারিয়ে দু/র্ঘটনার শিকার হয়। এতে তিনি গু/রুতর আ/হত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা চার দিন জীবন-মৃ/ত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করেন তিনি। অবশেষে মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃ/ত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় একাধিকবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে সদর মডেল থানার সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কামাল মিয়া পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং দুই সন্তানের জনক। পারিবারিক টানাপোড়েন ও দূরত্বের কারণে দীর্ঘদিন আলাদা জীবনযাপন করছিলেন।
মৃ/ত্যুর পর মানবিক বিবেচনায় পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। বুধবার সন্ধ্যায় নাটঘর ইউনিয়নের বড়হিত গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক ক/বরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামাল মিয়া বারবার পরিবারের খোঁজ করছিলেন। “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর” থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমদিকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশের সহায়তায় স্বজনদের সন্ধান মেলে এবং মরদেহ হস্তান্তর সম্ভব হয়।
কামাল মিয়ার মৃ/ত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর” পরিবার। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের তত্ত্বাবধানে কামাল মিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া মৃ/ত্যুর পর তার কাফনের কাপড়ও সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে।
