গণশৌচাগারের অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, প্রতিকার ও সুরক্ষায় করণীয়

স্কুল, কলেজ, বাসস্ট্যান্ড ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানের গণশৌচাগার বা পাবলিক টয়লেটে চরম নোংরা পরিবেশের কারণে বাড়ছে ডায়রিয়া, ইউটিআইসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
গণশৌচাগারের অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, প্রতিকার ও সুরক্ষায় করণীয়
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসস্ট্যান্ড, অফিস-আদালত ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের গণশৌচাগার বা পাবলিক টয়লেটের অব্যবস্থাপনা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বন্ধ ও আর্দ্র শৌচাগার জীবাণু ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীঘটিত নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

নোংরা শৌচাগারের কারণে ই-কোলাই ও সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থেকে ডায়রিয়া এবং শিগেলা ও জিয়ার্ডিয়ার সংক্রমণে আমাশয় হতে পারে। এ ছাড়া ভিব্রিও কলেরির কারণে কলেরা এবং সালমোনেলা টাইফির কারণে টাইফয়েড ছড়াতে পারে। সেই সঙ্গে স্ক্যাবিস, দাদ, ফোঁড়া ও ত্বকের সংক্রমণসহ নোরোভাইরাস, হেপাটাইটিস এ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

পাবলিক টয়লেটের নোংরা কমোড, মেঝের জল, দরজার হাতল, ফ্লাশের বোতাম ও ট্যাপে প্রচুর জীবাণু থাকে। ব্যবহারকারীদের অসচেতনতায় এসব জীবাণু হাত হয়ে খাবারে বা মুখে প্রবেশ করে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, টয়লেট ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। দরজার হাতল বা ফ্লাশ ধরার সময় টিস্যু ব্যবহার করা এবং সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা নিরাপদ।

বাসস্ট্যান্ডের টয়লেটগুলো অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের বড় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে অপরিষ্কার সিট ও মেঝের কারণে ইউটিআই এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

হাসপাতালের টয়লেটে সুস্থ ও অসুস্থ রোগীদের যৌথ ব্যবহারের ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এখান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু যেমন এমআরএসএ, সি. ডিফ, ক্লেবসিয়েলা ও সিউডোমোনাসের মাধ্যমে নিউমোনিয়া ও স্ক্যাবিস ছড়াতে পারে। এ ছাড়া ক্যাথেটার ব্যবহারকারী রোগীদের সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। হাসপাতালে ফ্লাশ করার সময় কমোডের ঢাকনা নামিয়ে দেওয়া এবং মাস্ক ও স্যান্ডেল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নোংরা শৌচাগারের ভয়ে অনেকেই বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘসময় প্রস্রাব চেপে রাখেন। কিন্তু তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি প্রস্রাব আটকে রাখলে ইউটিআই, মূত্রথলির সমস্যা এবং কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া মাসিকের সময় দীর্ঘক্ষণ প্যাড পরিবর্তন না করলে টক্সিক শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা হতে পারে। সুস্থ থাকতে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আবশ্যক।

এই সংকট নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ এবং শৌচাগার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। প্রতিবার ব্যবহারের পর শৌচাগার পরিষ্কার ও শুকনো রাখা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগার কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য ও মর্যাদার অন্যতম অংশ।

অথেন্টিক সোর্স: জাগো নিউজ
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ