প্রযুক্তি ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চলতি দশকের মধ্যেই মানবজাতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের বিলুপ্তির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এআই খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের তিন গবেষক। এই চরম ঝুঁকির বিষয়ে উদাসীনতার প্রতিবাদ জানিয়ে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগও করেছেন এক গবেষক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগকারী গবেষক জেকব কক্সন বলেন, অ্যানথ্রোপিক এবং তার পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই—উভয় সংস্থাই এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তারা কোনো দায়িত্বশীল আচরণ না করে সরাসরি ‘সেলফ-ইমপ্রুভিং সুপারইন্টেলিজেন্স’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্নত হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে এবং মানুষের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে।
কক্সন আরও জানান, এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অভ্যন্তরীণভাবে বিশ্বাস করেন যে এই প্রযুক্তি পুরো মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এটি কোনো বিপণন কৌশল নয়। অনেক নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ গবেষক গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের কথা সাবধানে গুছিয়ে বললেও গোপনে এই ভীতি প্রকাশ করেন। অন্য কোনো মানবীয় কর্মকাণ্ড এত বড় বিপদ তৈরি করেনি বলে তিনি সতর্ক করেন।
কক্সনের এই উদ্বেগজনক বার্তার সমর্থনে অ্যানথ্রোপিকের অন্য গবেষকরাও এগিয়ে এসেছেন। প্রতিষ্ঠানটির অ্যালাইনমেন্ট বিভাগের প্রধান ইভান হাবিনগার কক্সনের বক্তব্যকে সঠিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, এআই মডেল যেন মানুষের লক্ষ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে, সে বিষয়ে শিল্পখাতটির প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়।
ইভান হাবিনগার স্পষ্ট করেই বলেন, তারা গুরুত্বের সঙ্গেই বিশ্বাস করেন এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে। আগামী এক দশকের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি। অ্যানথ্রোপিক সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও সুপারইন্টেলিজেন্সের নিয়ন্ত্রণ বা অ্যালাইনমেন্ট সমস্যার সমাধান এখনও তাদের হাতে নেই।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যানথ্রোপিকের ‘স্কেলেবল ওভারসাইট’ প্রধান স্যামুয়েল মার্কস। ব্যক্তিগত দায়িত্বে দেওয়া এক বিশ্লেষণে তিনি লেখেন, এআই ডেভেলপাররা বিশ্বাস করেন তাদের এই প্রযুক্তি মানুষের বিলুপ্তি বা সমপর্যায়ের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ঘটতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা যত জ্যেষ্ঠ পদে রয়েছেন, তাদের উদ্বেগের মাত্রাও তত বেশি।
তবে গবেষকদের এমন আশঙ্কার বিপরীতে অ্যানথ্রোপিক এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থানের সাফাই দিয়েছে। তাদের দাবি, এআই প্রযুক্তির যেমন বিশাল সুফল রয়েছে, তেমনি এটি নজিরবিহীন ঝুঁকিও তৈরি করে—যা তারা সবসময় স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করে এসেছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় শিল্পখাতে সবচেয়ে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তারা প্রথম ‘রেসপনসিবল স্কেলিং পলিসি’ প্রকাশ করেছে এবং সাইবার নিরাপত্তা ও জৈব নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের বিপজ্জনক ক্ষমতা টানা পরীক্ষা করে যাচ্ছে। তারা মনে করে, প্রযুক্তি মুক্তির ক্ষেত্রে পুরো খাতের একটি আইনগত ও যাচাইযোগ্য কাঠামো অনুসরণ করা উচিত।
এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত গতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, জেকব কক্সনের পদত্যাগের বার্তাটি তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে, কক্সনের বক্তব্য যথার্থ। প্রযুক্তিটি যারা তৈরি করছেন, তারাই স্বীকার করছেন এটি মানবজাতির ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। স্যান্ডার্স জানান, তিনি অতিসত্বর ‘সুপারইন্টেলিজেন্স নিষিদ্ধ’ করা এবং এআই উন্নয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।