আমেরিকান ফুটবল দল কানসাস সিটি চিফসের তারকা টাইট এন্ড ট্রাভিস কেলসি ৩৫ মিলিয়ন ডলারের একটি পঞ্জি স্কিমের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মিসৌরির এক প্রসিকিউটর। এই প্রতারণা চক্রের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আদালতে ৩৮ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ জওহরকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার সময় প্রসিকিউটর ট্রাভিস কেলসির নাম উল্লেখ করেন। সেন্ট লুইসের মার্কিন জেলা আদালতে জানুয়ারি মাসে সিদ্ধার্থ জওহর তিনটি ওয়ার ফ্রড বা তারবার্তার মাধ্যমে প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৩১.৩৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইউএস অ্যাটর্নি অফিস।
টেলিভিশন স্টেশন কেএমওভি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রসিকিউটর কেলসির নাম উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো মন্তব্য করেননি। কেলসি কখন এই বিনিয়োগ করেছিলেন বা কত টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
ইউএস অ্যাটর্নি অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জওহর টেক্সাসভিত্তিক ‘সুইফটার্ক ক্যাপিটাল এলএলসি’ নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা শুরু করে।
সংগৃহীত সব অর্থ তিনি একটি একক বিনিয়োগে খাটান, যার মূল্য মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। তবে জওহর বিনিয়োগকারীদের এই ক্ষতির কথা জানাননি। বরং তাদের লাভ হচ্ছে বলে মিথ্যা তথ্য দেন এবং আগের বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধ করতে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিতে থাকেন।
একই সাথে তিনি বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত জেট বিমান ব্যবহার, বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া এবং প্রাইভেট ক্লাবের সদস্যপদ নেওয়ার মতো জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন পরিচালনা করতেন। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ৩৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পেলেও মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলারের মতো বিনিয়োগ করেছিলেন।
৩৬ বছর বয়সী কেলসিই এই পঞ্জি স্কিমের একমাত্র ক্রীড়াবিদ শিকার নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২১ সালে ফোর্বসে প্রকাশিত এনবিএ গার্ড গ্যারি হ্যারিসের আর্থিক পোর্টফোলিও সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে সুইফটার্ক ভেঞ্চার্স ল্যাবস ফান্ডে বিনিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। সেখানে জওহরকে সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবে জানানো হয় এবং হ্যারিস তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন।
ফোর্বসের ওই প্রতিবেদনে কেলসি ছাড়াও এনবিএ খেলোয়াড় টিম হার্ডাওয়ে জুনিয়র এবং মেসন প্লামলির মতো অন্যান্য অ্যাথলেটদের বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। স্পোর্টর্যাকের তথ্য অনুযায়ী, কেলসি, হার্ডাওয়ে এবং হ্যারিস—এদের প্রত্যেকেরই ক্যারিয়ারভিত্তিক আয় ১১১ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে কেলসি সঙ্গীতশিল্পী টেলর সুইফটকে বিয়ে করেন। ফোর্বসের মতে, বিয়ের দিনে টেলর সুইফটের নিট সম্পদ ছিল ২.১ বিলিয়ন ডলার। গত মৌসুমে অবসর নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও, কেলসি চিফসের হয়ে তার ১৪তম মৌসুমে খেলার জন্য এক বছরের চুক্তি নবায়ন করেন। গত সোমবার মৌসুমের প্রথম ম্যাচে কানসাস সিটি ডেনভার ব্রঙ্কোসকে পরাজিত করেছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।