ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রবাসীর স্ত্রী ফারজানা আক্তারের (২৬) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুর তিন দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছোট ভাই মো. মোজাহিদ মিয়া বাদী হয়ে সোমবার রাতে সরাইল থানায় মামলাটি করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ফারজানার ছোট বোন ফাবিয়া আক্তার প্রীতি(১৯) ও তাঁর প্রেমিক রায়হান (২২)কে আটক করেছে।
পুলিশের দাবি, প্রীতির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেরকান্দা গ্রাম থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে দুজনকে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।নিহত ফারজানা আক্তার গত ৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে প্রায় দুই মাস আট দিন তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সরাইল থানা পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। পুলিশ গোপনে তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে।
পুলিশ জানায়, আটক রায়হান নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামের মিলন মিয়ার ছেলে। প্রীতির সঙ্গে রায়হানের প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রীতির দেয়া তথ্যে তেরকান্দা থেকে রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছেন। এছাড়া রায়হানের আরও ২-৩ জন সহযোগীর সন্ধানও মিলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই রাতে ফারজানা তাঁর বাবার বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই সময় তাঁর ছোট বোন প্রীতিও একই কক্ষে ছিলেন বলে জানা গেছে। ফারজানার স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার পরপরই ফারজানার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা না করার বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেন ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া ও তদন্ত কর্মকর্তা শামীম জানান, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত বিষয় ও ফারজানার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি অন্যান্য তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ফারজানার মৃত্যুর পেছনে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল কিংবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।