মো মনির হোসাইন: কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেউড়িয়ায় মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ঐতিহ্যবাহী লালন একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন মেলা।
লালন আখড়াবাড়ির এই বাৎসরিক উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবারের মতো এবারও কুষ্টিয়ার কালী নদীর তীর মুখরিত হয়ে উঠবে সাধু, বাউল, গবেষক ও হাজারো লালনভক্তের উপস্থিতিতে।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে লালনের স্মৃতি স্মরণে আলোচনা সভা, আন্তর্জাতিক মানের লালন সংগীতের বিশেষ আসর এবং সাঁইজির ভাবাদর্শ নিয়ে গভীর ভাববিনিময়।
দেশ-বিদেশ থেকে আগত অগণিত বাউল ও দর্শনার্থীদের যাতায়াত সুগম করতে এবং পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমির পক্ষ থেকে জোরদার নিরাপত্তা বলয়সহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
ফকির লালন শাহ কেবল একজন সাধারণ বাউল সাধক বা লোককবি ছিলেন না, বরং তিনি বাংলা সংস্কৃতি, লোকচর্চা ও ভাব ভাবনার জগতে এক কালজয়ী অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।
তাঁর জন্ম, শৈশব, জীবনের নানা করুণ ইতিহাস ও কঠোর সাধনার গল্প যুগে যুগে অনুসন্ধিৎসু মানুষকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে।
তৎকালীন সমাজে যখন ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাত ও কুসংস্কারের দেয়াল তুলে মানুষকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল, বাউল সম্রাট লালন সাঁই তখন একতারা হাতে নিয়ে সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে গেয়েছেন কেবলই জাত-পাতহীন ও বিশুদ্ধ মানবতার গান।
তত্ত্বকথা ও লোকসূরের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে লালন সাঁই যে আত্মদর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা আজ বিশ্বদরবারেও সমানভাবে সমাদৃত।
তাঁর রচিত অমর গান ও অমলিন সৃষ্টিসমূহ যুগের পর যুগ অতিক্রম করে বাংলার লোকসংস্কৃতির মূল শক্তি হিসেবে প্রবহমান রয়েছে। মহাপ্রয়াণের শত বছর পেরিয়ে গেলেও লালন দর্শনের অবিনশ্বর প্রভাব আজও অমলিন।
এই তিন দিনব্যাপী মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে সাধু-সঙ্গ ও লালন সাঁইয়ের অমর বাণীগুলো এক নতুন মাত্রা পাবে, যা দর্শনার্থীদের সাঁইবাদের মূল চেতনা ও চিরায়ত মানবতাবাদী বার্তা পৌঁছে দিতে এক বিশেষ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।