আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ন
পাকিস্তান করাচির বহুল আলোচিত মীর রেজা মামলার তদন্তে গঠিত জুডিশিয়াল কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মীর রেজার মৃত্যুকে আত্মহত্যা নয়, বরং একটি হত্যাকাণ্ড বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও চিকিৎসকদের ভূমিকায় গুরুতর গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মীর রেজার মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যার তত্ত্ব পুরোপুরি খারিজ হয়ে গেছে। চিকিৎসাগত এবং কারিগরি তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গুলির আঘাতের গতিপথ, শরীরে বিষাক্ত বা অচেতনকারী ওষুধের উপস্থিতি এবং মরদেহের পিঠে গুলির ক্ষত নিশ্চিত করে যে এটি একটি হত্যাকাণ্ড ছিল। তা ছাড়া যে স্থানে লাশ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে রক্তের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং শরীরে এসিডে পোড়ার দাগও বিদ্যমান ছিল।
পুলিশ পূর্বে দাবি করেছিল যে মীর রেজা সামনের দিক থেকে নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার মৃত্যুর প্রধান কারণ পিঠের দিক থেকে লাগা গুলির আঘাত। পুলিশের প্রাথমিক এই ধারণাকে অবৈজ্ঞানিক এবং মিডিকো-লিগ্যাল প্রমাণের সম্পূর্ণ বিরোধী বলে চিহ্নিত করেছে জুডিশিয়াল কমিশন। কোনো আর্থিক দেনা বা ব্যবসায়িক লেনদেনের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন—এমন দাবির সপক্ষেও কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তদন্তে অবহেলা ও পুলিশি গাফিলতির বিষয়ে কমিশন কড়া সমালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমএলও ডাক্তার ওসামা এবং তার সহযোগীদের অনভিজ্ঞ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ পুলিশের আত্মহত্যার দাবিকে সাহায্য করেছিল। জুডিশিয়াল কমিশন মনে করে, ডাক্তার ওসামার আচরণ ছিল অত্যন্ত অপেশাদার এবং তিনি সম্ভবত কারও প্রভাবে কাজ করছিলেন। এর ভিত্তিতে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যে, পরবর্তী দুই বছরের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ না নেওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো দায়িত্বে পুনর্বহাল করা যাবে না।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জুডিশিয়াল কমিশন একটি যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠনের সুপারিশ করেছে। এই জেআইটিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI), আইবি (IB), রেঞ্জার্স এবং এনসিসিআইএ (NCCIA)-এর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। এই বিশেষ তদন্ত টিমের প্রধান হিসেবে যোগ্য পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি ইরফান বালুচকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
পাশাপাশি যেসব পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তে গাফিলতি করেছেন, তথ্যপ্রমাণ গোপনের চেষ্টা করেছেন বা দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে পৃথক কমিটি গঠন করে ফৌজদারি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
জুডিশিয়াল কমিশনের এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আসার পর সিন্ধু সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ সাব-কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। এই কমিটিতে প্রাদেশিক মন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার, নাসির হুসাইন শাহ, সাইদ গনি এবং সিন্ধুর অ্যাডভোকেট জেনারেলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: ARY News Urdu

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।