আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ন
পাকিস্তান শাসিত বেলুচিস্তানের কাচ্চি ও ওয়াধ জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত আলাদা দুটি অভিযানে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামক সংগঠনের ৯ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর)। নিহতদের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
আইএসপিআরের বরাতে জানা যায়, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় বেলুচিস্তানের কাচ্চি জেলায়। সেখানে সন্ত্রাসীদের একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ঘেরাও করলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এই গোলাগুলিতে ভারতীয় মদদপুষ্ট দাবি করা ৭ সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয় ওয়াধ জেলায়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি চিহ্নিত করে তাদের পথরোধ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড অগ্নিকাণ্ডের পর আরও ২ সন্ত্রাসী নিহত হয়। সেখানেও তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।
সামরিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উক্ত এলাকাগুলোতে অন্য কোনো ভারতীয় মদদপুষ্ট বা সশস্ত্র সন্ত্রাসী আত্মগোপন করে আছে কি না তা নিশ্চিতে বর্তমানে চিরুনি অভিযান বা ‘স্যানিটাইজেশন অপারেশন’ পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো সুযোগ না দিয়ে পুরো এলাকা নিরাপদ করতে সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় ফেডারেল অ্যাपेক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার অধীনে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে তাদের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে যে, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আঙ্গুর আড্ডা এলাকার একটি বেসামরিক বাড়িতে আফগান তালেবান সরকারের ছোড়া একটি গোলা এসে পড়ে। এতে এক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং একই পরিবারের পাঁচ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
বেসামরিক জনবসতিতে সরাসরি সীমান্ত পেরিয়ে এই গোলাবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর এই হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাত্ক্ষণিক ও জোরালো পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।
পাল্টা জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সীমান্তসংলগ্ন আফগান বাহিনীর বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট ধ্বংস করে দিয়েছে বলে সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে। বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনায় পাকিস্তান সীমান্তে কড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তজুড়ে পাকিস্তানি সেনারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সীমান্ত অতিক্রম করে আসা যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরহস্তে প্রতিরোধ করার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।