আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ন
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি সংক্রান্ত বার্ষিক আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে অধিবেশনের সভাপতিত্বে থাকা বাংলাদেশের প্রতিনিধি খলিলুর রহমান সাময়িকভাবে বৈঠক স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা অবসানের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার একপর্যায়ে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা একে অপরের বিরুদ্ধে চরম আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে অধিবেশনে অচলাবস্থা তৈরি করে।
কিউবার প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ওপর অন্যায্য ও অমানবিক অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে রাখার জন্য কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দশকজুড়ে চলা এই অবরোধের কারণে কিউবার সাধারণ জনগণ চরম অর্থনৈতিক সংকট ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি কিউবার সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড ও অর্থনৈতিক নীতির কড়া সমালোচনা করে নিজ দেশের অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। মার্কিন প্রতিনিধি উল্লেখ করেন যে কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোই এই ধরনের বিধিনিষেধের মূল কারণ।
তর্কবিতর্ক একপর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত রূপ নেয় যে পরিষদের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক কাজ পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ পরিষদের নিয়মকানুন বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে সভাপতি খলিলুর রহমান হস্তক্ষেপ করেন।
খলিলুর রহমান দুই পক্ষকেই জাতিসংঘের শিষ্টাচার বজায় রাখার অনুরোধ জানান। তবে বাগবিতণ্ডা থামানো না গেলে তিনি সাময়িকভাবে অধিবেশনের কাজ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে আবারো অধিবেশন পুনরায় শুরু করা হয়। জাতিসংঘে কিউবার ওপর মার্কিন অবরোধ সম্পর্কিত প্রস্তাবটি প্রতি বছরই বিপুল ভোটে গৃহীত হয়ে আসলেও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।