আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যের সরকার বাজেটে গ্যাসে স্থায়ী বা ‘স্ট্যান্ডার্ড’ চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারের এই পদক্ষেপে দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার বার্ষিক গড়ে ৪৫ পাউন্ড করে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জন হিলি এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম একটি ভিডিও বার্তায় এই বাজেটকে জীবনযাত্রার ব্যয়ে স্বস্তি আনার মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বাজেট পেশের আগে ডাউনিং স্ট্রিটে মানি সেভিং এক্সপার্ট ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন লিউইসের সাথে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী জন হিলি। দীর্ঘদিন ধরেই লিউইস গ্যাসের বিল থেকে স্থায়ী চার্জ বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বৈঠকের পর তিনি জানান, বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
আগামী জানুয়ারি মাস থেকে জ্বালানি পণ্যের দাম উল্লেখজনকভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সরাসরি কিছু নিশ্চিত না করলেও ধারণা করা হচ্ছে যে জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অতিরিক্ত ব্যয় সামলাতে নির্দিষ্ট সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।
মার্টিন লিউইস উল্লেখ করেন, জ্বালানি খাতের প্রধান সমস্যা হলো আগামী জানুয়ারিতে প্রাইজ ক্যাপ প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বাজেটে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে গ্রিন পার্টির তরফ থেকে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থায়ী চার্জ বাতিল করা মূল সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এটি সরকারের একটি সামান্য উদ্যোগ মাত্র, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।
বাজেট সংক্রান্ত ধারণায় অর্থমন্ত্রী জন হিলি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান নীতি সাধারণ মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশার বার্তা বয়ে আনবে। তবে বিশ্লেষকরা এটিকে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই সাময়িক স্বস্তির পদক্ষেপ বলে দেখছেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।