— বিজ্ঞাপন —

খাল থেকে মুক্ত করলেও খোলা সমুদ্রে যেতে চাইছে না দক্ষিণ কোরিয়ার সেলিব্রিটি হাঙ্গর ‘বুকানগি’

দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের একটি খালে আটকা পড়ে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল 'বুকানগি' নামের একটি হাঙ্গর। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে খোলা সমুদ্রে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও সে বারবার খালের মোহনাতেই ফিরে আসছে।
খাল থেকে মুক্ত করলেও খোলা সমুদ্রে যেতে চাইছে না দক্ষিণ কোরিয়ার সেলিব্রিটি হাঙ্গর 'বুকানগি'
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন

দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বুসানের একটি খালে আটকা পড়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ‘বুকানগি’ নামের একটি ডাস্কি হাঙ্গরকে উদ্ধার করে খোলা সমুদ্রে পাঠানোর চেষ্টা সফল হচ্ছে না। উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে তাকে খাল থেকে বের করে দিলেও সে আবার খালের মোহনায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

তিন মিটার (১০ ফুট) দীর্ঘ এই হাঙ্গরটিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আদর করে ‘বুকানগি’ নাম দিয়েছেন। গত মাসে বুসানের খালের নাব্যতায় তাকে প্রথম সাঁতার কাটতে দেখা যায়। এরপর থেকেই এটি স্থানীয়দের মধ্যে তুমুল কৌতূহল তৈরি করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের অনানুষ্ঠানিক ‘মাসকট’ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বুধবার লাইভস্ট্রিমে সম্প্রচারিত এক উদ্ধার অভিযানে উদ্ধারকর্মীরা টানা আট ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে জাল দিয়ে হাঙ্গরটিকে সাবধানে খালের মুখ থেকে একটি বন্দরের উন্মুক্ত পানির দিকে নিয়ে যান। এ সময় খালের ওপরের পার্কটিতে উপস্থিত শত শত ভক্ত হাঙ্গরটিকে বিদায় জানাতে হাত নাড়েন এবং উল্লাস প্রকাশ করেন।

তবে বৃহস্পতিবার সকালে বুকানগি কর্তৃপক্ষের বসানো একটি জাল ভেঙে আবারও খালের ভেতরে ঢুকে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য সে জালের দুটি স্তরের মাঝখানে আটকে পড়েছিল। পরবর্তীতে উদ্ধারকর্মীরা একটি স্তর সরিয়ে সেটিকে মুক্ত করেন এবং পুনরায় প্রবেশ ঠেকাতে ব্যারিকেড বা জালের স্তরটি আরও শক্তিশালী করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সরকারি কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, হাঙ্গরটিকে মুক্ত করার আনুষ্ঠানিক অভিযান আপাতত শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে হাঙ্গরটি কিছুটা দূরে সাঁতার কাটলেও খালের মোহনার দিকেই বারবার চক্কর দিচ্ছে। এটি স্থায়ীভাবে খোলা সমুদ্রে সাঁতার কেটে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বঙ্গোপসাগরের সংলগ্ন এই এলাকার অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি এবং পর্যাপ্ত খাবারের টানে বুকানগি এই খালে ঢুকে পড়েছিল। সাগরের তাপমাত্রা প্রতি বছর বাড়তে থাকায় আগামী দিনে বুসান উপকূলে এমন হাঙ্গরের আগমন আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত এক মাসে বুকানগিকে দেখতে খালের পাড়ে ১৬ লক্ষেরও বেশি দর্শনার্থী সমবেত হন, যা বুসানের পর্যটন খাতে বড় ধরনের সাড়া ফেলেছিল। তবে হাঙ্গরটির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পরিবেশবাদীরা। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাঙ্গরটির থুতনির অংশে রক্তাত্ব ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং সে ঠিকমতো খাবার খাচ্ছিল না। পানির তাপমাত্রা কমে এলে সে আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

বুকানগিকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বুসানের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বিমত ছিল। কেউ কেউ মনে করেন যে খালের সুরক্ষিত পরিবেশে থাকাই হাঙ্গরটির জন্য নিরাপদ ছিল। তবে অনেকে মনে করেন, খালের ভেতরে সে ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছিল এবং স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছিল। তাই খোলা সমুদ্রে মুক্তভাবে বেঁচে থাকার জন্য তার নিজের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরে যাওয়াই শ্রেয়।

সূত্র: BBC News – World
পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗