আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন
চীনের অত্যন্ত গোপনীয় এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য একটি মহাকাশযানের বিরল ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি। প্রকাশিত ছবিটিতে মহাকাশযানটির খোলা কার্গো বে এবং পেছনের অংশের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি ছোট মহাকাশযান দেখতে পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থার গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘চ্যালেঞ্জেস টু সিকিউরিটি ইন স্পেস’ শীর্ষক একটি নতুন প্রতিবেদনে ছবিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে চীনের বহু আলোচিত ও গোপনীয় মহাকাশ প্রকল্প সম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এল।
স্যাটেলাইট চিত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভেন্টোর (যা পূর্বে ম্যাক্সার নামে পরিচিত ছিল) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের ওয়ার্ল্ডভিউ-থ্রি স্যাটেলাইট ২০২৪ সালের ২৮ মে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূর থেকে এই ছবিটি তুলেছিল।
চিনের এই মহাকাশযানটি দেখতে ছোট আকৃতির স্পেস শাটলের মতো। এতে দুটি খাড়া ডানা সদৃশ অংশ এবং মালামাল বহনের জন্য একটি মূল কার্গো স্থান রয়েছে। এর বাহ্যিক গঠন মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর ব্যবহৃত এবং বোয়িং নির্মিত এক্স-থার্টি সেভেন বি (X-37B) স্পেসপ্লেনের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।
চীন ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানের পরীক্ষামূলক মিশন শুরু করে। পরবর্তীতে এর দ্বিতীয় মিশনটি ২৭৬ দিন এবং তৃতীয় মিশনটি সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ২৬৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করার পর সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
এরপর ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘লং মার্চ-টু এফ’ রকেটের সাহায্যে এর চতুর্থ মিশনটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার মতে, এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি পরীক্ষা করা। তবে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
সাধারণত ‘শেনলং’ নামে পরিচিত এই মহাকাশযানটিকে রকেটের সাহায্যে মহাকাশে পাঠানো হয় এবং এটি ল্যান্ডিং স্ট্রিপ বা রানওয়েতে ফিরে আসে। ফলে কক্ষপথে পাঠানো বিভিন্ন সরঞ্জাম নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরত আনা সম্ভব হয়।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন এই স্পেসপ্লেনের আসল উদ্দেশ্য এবং এর মাধ্যমে মহাকাশে কী ধরনের সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছে সে তথ্য গোপন রেখেছে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তাদের নিজস্ব এক্স-থার্টি সেভেন বি মহাকাশযানের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মিশন ও আধুনিক প্রযুক্তি পরীক্ষা চালিয়ে আসছে।
সূত্র: ARY News Urdu

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।