আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন
ইরানের রাজধানী তহরানে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে পিএমএল-এন নেতা খাজা আসিফ এবং জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ হয়েছে। মাওলানা ফজলুর রহমানের সমালোচনার জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট করেছেন যে, তহরানে কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি পর্যালোচনার অধীনে ছিল না। তাই সেখানে তাঁর উপস্থিতি আবশ্যক ছিল না।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে উভয় নেতা তহরান সম্মেলন, কাশ্মীর কমিটি, খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং গভর্নর শাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইস্যুতে একে অপরের প্রতি কড়া সমালোচনা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য তুলে ধরেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান সরকারের সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এর জবাবে খাজা আসিফ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং বিরোধী পক্ষের উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তহরান বৈঠকের বিষয়ে খাজা আসিফ জোর দিয়ে বলেন যে, যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল তার সাথে কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্পর্ক ছিল না। ফলে সেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রতিনিধিত্বের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি।
উভয় নেতার এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নীতি নির্ধারণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন ফজলুর রহমান।
অন্যদিকে, কাশ্মীর কমিটির কার্যকারিতা এবং দেশের খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ও প্রাদেশিক অধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও দুই নেতার অবস্থান ছিল বিপরীতমুখী।
পার্লামেন্টের এই বিতর্কে গভর্নর শাসন জারির মতো সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়েও দুই পক্ষ নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে। খাজা আসিফ ও ফজলুর রহমানের এই মুখোমুখি অবস্থান আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: BBC Urdu

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।