আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ন
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকটের প্রতিবাদে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের তাবু উচ্ছেদে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির পুলিশ। রোববার ভোরে লিসবনের রসিও স্কোয়ারে স্থাপিত তাবু সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ঢাল ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এক সপ্তাহ আগে একই ধরনের পুলিশি অভিযানের পর মানবাধিকার সংস্থা ও বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা আসা সত্ত্বেও এই নতুন অভিযান চালানো হলো।
রোববার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ডজনখানিক পুলিশ সদস্য লিসবনের মূল চত্বরে প্রবেশ করেন। তাঁদের সঙ্গে পুলিশি কুকুরও দেখা যায়। আবাসন সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কায় সরকারের প্রস্তাবিত নতুন ভাড়া আইন প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। সেই বিক্ষোভ মিছিল শেষে আন্দোলনকারীরা রসিও স্কোয়ারে ৫০টিরও বেশি তাবু স্থাপন করেছিলেন।
উচ্ছেদ অভিযানের আগে পুলিশ কমান্ডার ইউরি রদ্রিগেস তাবুগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনবার সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, চত্বরে বেআইনিভাবে এসব তাবু স্থাপন করা হয়েছে এবং এই নির্দেশের বিরোধিতা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অমান্যের অভিযোগ আনা হতে পারে। এরপরই পুলিশ তাবুগুলো ভেঙে দেয় এবং চত্বর আগলে রাখা শত শত বিক্ষোভকারীকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পাশাপাশি পোর্তোর দাইও জোয়াও প্রথম স্কোয়ার থেকেও একটি ছোট তাবু শিবির উচ্ছেদ করে পুলিশ।
অভিযানের পূর্বে দেশটির আইনপ্রণেতা পেদ্রো দেলগাদো আলভেস জানান, রসিও স্কোয়ারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের মতো শারীরিক সহিংসতা বা লাঠিচার্জের মতো কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না।
এর আগে গত রবিবারেও একই চত্বরগুলোতে অভিযান চালিয়েছিল পর্তুগিজ পুলিশ। সে সময় লিসবন থেকে ২৫ জন এবং পোর্তো থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ‘কাসা পারা ভিভের’ নামে একটি আবাসন অধিকার রক্ষা সংস্থা দাবি করেছে, সেই অভিযানে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছিলেন। যদিও পুলিশ সেদিনের অভিযানকে পরিস্থিতি অনুযায়ী আনুপাতিক বা যথাযথ বলে বর্ণনা করেছিল।
পর্তুগালে আবাসন সংকট বর্তমানে অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার সবচেয়ে বড় শিকার তরুণ প্রজন্ম। ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটিতে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে এবং নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যাংক অব পর্তুগালের হিসাব মতে, বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ আবাসন ঘাটতি রয়েছে, যা গোটা লিসবন শহরের মোট আবাসনের সমান।
পর্তুগালের সংখ্যালঘু মধ্য-ডানপন্থী সরকার নতুন যে বিল আনার পরিকল্পনা করছে, তাতে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নতুন ভাড়ার ওপর থেকে সর্বোচ্চ সীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকার যেন অবিলম্বে এই বিলটি বাতিল করে। তাঁদের মতে, এটি পাস হলে বাড়িভাড়ার চাপ আরও বাড়বে এবং ভাড়াটেরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বেন। এই সংকট কেবল পর্তুগালেই সীমাবদ্ধ নয়; স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও আলবেনিয়াজুড়েও জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আবাসন সংকটের বিরুদ্ধে জনক্ষোভ বাড়ছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।