কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালীকে অবৈধ দখল ও দূষণের সংকট থেকে বাঁচাতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বক্তারা। বুধবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত ‘দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত বাঁকখালী নদী: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই মতামত উঠে আসে।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বেলার লিগ্যাল কোঅর্ডিনেটর এস. হাসানুল বান্না।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাঁকখালী নদী একসময় উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আশপাশের জনবসতিকে রক্ষা করত। পাশাপাশি এতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে লাগামহীন দখল ও দূষণের কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নদীটি তীব্র অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
সভায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, বাঁকখালী নদীতে ৩৫ প্রজাতির মাছ এবং ১০ প্রজাতির অন্যান্য জলজ প্রাণী রয়েছে। বাসাবাড়ি ও অন্যান্য তরল বর্জ্য নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে, যা মানুষের খাদ্য শৃঙ্খলেও প্রভাব ফেলছে। নদীটি অবিলম্বে দূষণমুক্ত করা না গেলে এসব প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিবেশকর্মীরা কস্তুরা ঘাট এলাকায় প্যারাবন কেটে নদী দখলের বিষয়টি তুলে ধরে জানান, উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে কিছু জায়গা দখলমুক্ত করা হলেও কাটা পড়া প্যারাবন আর ফিরে আসেনি। এছাড়া নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং তামাক চাষ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদকর্মী ও অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, অবৈধ দখলদারদের বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান এবং খাজনা নেওয়ার মাধ্যমে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান পরোক্ষভাবে তাদের বৈধতা দিচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, ফসল উৎপাদনের জন্য নদীর দূষণমুক্ত পানি অত্যন্ত জরুরি। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ সমস্যা অচিরেই সমাধানের অযোগ্য হয়ে পড়বে। অন্যদিকে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমান জানান, পাহাড় কাটা ও নদী দখল বন্ধে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার।
সভাপতির বক্তব্যে আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা উল্লেখ করেন, নদী রক্ষা না পেলে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধতাসহ নানা পরিবেশগত ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করবে। তিনি ইতোমধ্যে উদ্ধার হওয়া জায়গাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর জোর দেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।