যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা আলী খামেনি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের সম্মুখীন হওয়ার পর বুধবার এক লিখিত বার্তায় এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। মার্কিন নীতিতে পরিবর্তনের আশাকে উড়িয়ে দিয়ে ইরানি নেতা বলেন, দলীয় ক্ষমতার রদবদলের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের বৈরী আচরণ বদলে যাবে বলে যারা আশা করেন, তারা মারাত্মক ভুলের মধ্যে রয়েছেন।
গত মার্চে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় পূর্বসূরি ও বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতা গ্রহণ করা মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে আসেননি এবং লিখিত বার্তার মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করছেন। বুধবারের বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নেয়, তবে যুদ্ধের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ফলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্টের সামরিক নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা বহাল রয়েছে।
ইরানের প্রধান রাজনৈতিক ও বিচারিক ব্যক্তিত্বরাও এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরানের প্রধান গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানান, মার্কিন জনগণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে মূলত যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মার্কিনিরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সাথে বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই বলেন, ট্রাম্প সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচনী পরাজয়ের পেছনে ইরান পরিস্থিতির প্রভাব থাকার কথা স্বীকার করেছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ফলাফলের একটি অংশে ইরান ইস্যুর প্রভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে সম্প্রতি তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের হামলা প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প জানান, আমরা যা চাই তা পাচ্ছি এবং আমাদের প্রস্তুতি থাকলেও অবিলম্বে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এর মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, সেখানে নির্মিত একটি বিমান বিরোধী স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে, যাকে তিনি একটি ছোট ধরনের হামলা বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ড্রোন ধ্বংসের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বার্তা দেওয়া হয়নি।
চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তার সরকার আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর জন্য সর্বোচ্চ নেতা বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার জানিয়েছে, দুই পক্ষই তাদের পেশ করা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে এবং একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির আশা প্রকাশ করেছে। চীনও জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়া রোধ করাই তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রধান অগ্রাধিকার।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।