আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ন
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ সুক্কুর শহরের প্রতিটি পরিবারে নিরবচ্ছিন্ন ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সুক্কুর পানি সরবরাহ প্রকল্প পর্যালোচনা করেছেন। রোববার প্রকল্প সংক্রান্ত এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি বলেন, সিন্ধু নদের তীরে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সুক্কুর শহরকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না।
মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, শহরের দীর্ঘদিনের পানি সংকট সমাধান করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তিনি সুক্কুরের বর্তমান ও ভবিষ্যতের পানির চাহিদার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন গ্যালন পানি পরিশোধন করতে সক্ষম একটি আধুনিক পানি শোধন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। ২.১৪ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এলাকায় পানি সরবরাহ সুবিধা সম্প্রসারণের আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে বাক্কুর দ্বীপ, বান্দর রোড, প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং বিমানবন্দর সড়কের পরিকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি শহরের সার্বিক চিত্র বদলে দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
পর্যালোচনা সভা চলাকালীন মুরাদ আলী শাহ আরও জানান, সুক্কুর শহরকে চীনের ইচাং শহরের সাথে জোড়া শহর বা ‘টুইন সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাবটি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ইচাং শহরের নগর উন্নয়নের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সুক্কুরকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে চায় প্রাদেশিক সরকার।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সুক্কুর ব্যারেজের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এই উদ্যোগটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক নগর সুবিধার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটাতে সাহায্য করবে। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগ, সুক্কুরের মেয়র এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসাথে কাজ করার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে উপস্থিত সিন্ধুর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নাসির হোসেন শাহ সুক্কুরের পানি সংকট নিরসনে প্রাদেশিক সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুক্কুর ও নিউ সুক্কুর উভয় এলাকার জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সেই সাথে আবাসিক এলাকাগুলোর সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে পানির চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।