W3Schools.com  

কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া ঢাবি ছাত্র মুশফিকের বাঁচার আকুতি

লেখক: Md Emon
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

অনলাইন ডেক্স

বর্তমানে মুশফিককে প্রতি সপ্তাতে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। চিকিৎসক বলেছেন, আরও একবার করে ডায়ালাইসিস বাড়াতে হবে। অর্থাৎ এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে মুশফিককে তিনবার ডায়ালাইসিস করতে হবে। এই অবস্থায় তার কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুশফিকুর রহিমের। জন্মের দেড় মাসের মাথায় বাবাকে হারান তিনি। এরপর অনেক সংগ্রাম করে স্কুল, কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখেন এ শিক্ষার্থী, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ না হতেই বাঁচা-মরার নতুন লড়াই শুরু হয়েছে মুশফিকের।

এ লড়াইয়ে টিকে থাকতে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দরকার এ ঢাবি শিক্ষার্থীর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের কালু মুন্সির বাড়ির প্রয়াত গোলাম মোস্তফার দ্বিতীয় ছেলে মুশফিক। তার বড় ভাই নাশাদুল ইসলাম তফসির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ইংরেজি চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার মা মনিরা বেগম একজন গৃহিনী।

মুশফিক ও তার বড় ভাইয়ের টিউশনি থেকে পাওয়া টাকায় নিজেদের খরচের পাশাপাশি পরিবারের ব্যয় মেটানো হতো, কিন্তু চলতি বছর মুশফিকের শরীরে গুরুতর জটিলতা ধরা পড়ায় পরিবারটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

গত ৩১ মে শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা করতে গেলে মুশফিকের কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসক জানান, তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে, যে কারণে শরীরও অকেজো হতে বসেছে।

বর্তমানে মুশফিককে প্রতি সপ্তাতে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। চিকিৎসক বলেছেন, আরও একবার করে ডায়ালাইসিস বাড়াতে হবে। অর্থাৎ এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে মুশফিককে তিনবার ডায়ালাইসিস করতে হবে। এই অবস্থায় তার কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

মুশফিকের বড় ভাই নাসাদুল ইসলাম তাফসিরের ভাষ্য, অর্থের অভাবে ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। সপ্তাহের ডায়ালাইসিস করাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি জানান, বিগত এক মাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি রোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন মুশফিক। বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর এসবিএফ নাজির আহমেদ সামসুল হক কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার থেকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন তিনি। ডায়ালাইসিসের জন্য প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে অন্তত ২০ হাজার টাকা।

চিকিৎসকরা বলেছেন, মুশফিকের দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। নিজস্ব কোনো ডোনার না থাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন ও চিকিৎসা বাবদ দরকার প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

মুশফিকের বড় ভাই তাফসির বলেন, তার ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যয় বহনের মতো কোনো অবস্থাই নেই পরিবারের। এ অবস্থায় সবার সহায়তাই পারে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাবা মারা গেছে ২০ বছর আগে। তখন ছোট ভাই মুশফিকের বয়স ছিল দেড় মাস। আমাদের মা অনেক কষ্ট করে আমাদের লালন-পালন করে বড় করেছেন। মুশফিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর টিউশনি করে সে নিজের খরচ চালাচ্ছিল।

‘সম্প্রতি তার কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে। তার চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা প্রয়োজন, কিন্তু সেই অর্থ খরচ করার সামর্থ্য আমাদের নেই।’

তাফসির আরও বলেন, ‘আমি নিজেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছি। আমাদের পরিবারের আর্থিক উপার্জনেরও তেমন ব্যবস্থা নেই। মা ছোট ভাইয়ের এই করুণ পরিস্থিতি দেখে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ক্ষমতা আমাদের নেই। সমাজে অনেক বিত্তবান রয়েছেন।

‘সবাই যদি আমার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসে, তাহলে আমার ভাইটা নতুন জীবন ফিরে পাবে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানাই, তিনি যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মুশফিককে বাঁচিয়ে আমার মায়ের কোলে আবার ফিরিয়ে দেন।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম বলেন, ‘একটি জীবন ফুরিয়ে যাবে, এটি কখনও কাম্য নয়। আমরা আমাদের সাধ্যমতো মুশফিকের পাশে দাঁড়াব। পাশাপাশি সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদেরও মুশফিকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

পথিক নিউজ/ মো:ইমন