
ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন । এঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির অঙ্গ সংগঠন পাটগ্রাম উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক (৪২) (আজ) সকাল ০৮:০০ ঘটিকার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ( কীটনাশক ডাসবান) বিষপান করেন।পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লাইভে আসে ওমর ফারুক নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে তিনি আত্মহত্যার কারণ ব্যাখ্যা করেন।
সেখানে তিনি লেখেন,
“আমি বিএনপি করে নিজের জীবন শেষ করে ফেললাম… আমি আর বাঁচতে চাই না!বিদায়…”!
স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য মতে, পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপিতে কিছু ‘সুযোগসন্ধানী’ ও ‘সুবিধাবাদী’ চাঁদাবাজের দখল চলে এসেছে। যারা দলের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই করছে না। দলের জন্য তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, মার খেয়েছেন, সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আগামীকাল তার মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষা, এবং এই পরিস্থিতিতে মেয়েটি পরীক্ষা দিতে পারবে কি না সে ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ওমর ফারুক তার ফেসবুক পোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন ‘সুবিধাবাদীদের’ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ শপিকার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল কোন মন্তব্য না করলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জন বিএনপি নেতা জানান,
নতুন ইউএনও এর সাথে বিএনপি ও নেতাকর্মীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ এর সময় তাকে নিয়ে না যাওয়ায় বিএনপির উপজেলার কয়েক জন নেতাকে ওমর ফারুক গালাগাল করে। বিষয়টি সিনিয়র নেতাকর্মী জেনে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানানো হলে তিনি ক্ষোভে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান জানান, ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করার কারনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়া চলছিলো। এমন খবর পেয়ে তিনি আবেগ প্রবণ হয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আমরা তার এবং তার পরিবারের খোঁজখবর রাখছি। বর্তমানে তিনি রংপুর হাসপাতালে শঙ্কামুক্ত আছেন।
এ ব্যাপারে পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
