মৌলভীবাজারে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালাল স্বামী ও শাশুড়ি — পরিবার বলছে পরিকল্পিত হত্যা!

মৌলভীবাজারে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালাল স্বামী ও শাশুড়ি — পরিবার বলছে পরিকল্পিত হত্যা!
মৌলভীবাজারে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালাল স্বামী ও শাশুড়ি — পরিবার বলছে পরিকল্পিত হত্যা!
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০নং নাজিরাবাদ ইউনিয়নের বরইউরি গ্রামে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর মরদেহ ফেলে স্বামী ও শাশুড়ি পলাতক হয়েছেন। নিহতের পরিবারের দাবি— এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা।

নিহত গৃহবধূর নাম প্রিয়া বেগম (২২)। তিনি বরইউরি গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজুড়া এলাকার শাহিন মিয়ার কন্যা।

গতকাল (শনিবার) রাতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে হৃদয়বিদারক ও রহস্যঘেরা এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রিয়াকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে তারা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই প্রিয়া দাম্পত্য কলহে ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে নানা সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রিয়া নিজের ফেসবুক আইডিতে এক হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন—“দুনিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হলো বিয়ে, ভাগ্য করে সঠিক জীবনসঙ্গী পেলে সব ঠিক, আর না হলে কবর পর্যন্ত সবকিছু মানিয়ে নিতে হয়।”

এই পোস্টের কিছুক্ষণ পরই ঘটে তার মৃত্যু, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।নিহতের বড় ভাই মামুন আহমদ অভিযোগ করে বলেন,“আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ওদের পরিবার আগে থেকেই ওকে মারধর করত। পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলে লাশ রেখে পালিয়ে গেছে।”

স্থানীয় এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“প্রিয়া খুব শান্ত-ভদ্র মেয়ে ছিল। বিয়ের পর থেকে ওর মুখে হাসি দেখিনি, প্রায়ই কান্না করত। আমরা বুঝতাম ওর সংসারে সমস্যা আছে।”এলাকার এক জনপ্রতিনিধিও জানান,“এই ঘটনার পেছনে গভীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান) বলেন,“এটি হত্যা না আত্মহত্যা— তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।” ঘটনার পর থেকে স্বামী ইব্রাহিম মিয়া ও তার মা পলাতক। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ