ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনকে “শিক্ষা ও শিল্পের মিলনস্থলে” রূপান্তর করার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন শায়খ নেসার আহমাদ আন-নাছিরী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই মনোনীত প্রার্থী, যিনি একজন হাফেজ গড়ার কারিগর হিসেবে বিশ্বজয় করেছেন, এবার জনপ্রতিনিধি হয়ে সরাইল-আশুগঞ্জের জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
রোববার (৬ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন—এই জনপদ ইতোমধ্যে শিল্প, কৃষি ও ব্যবসার মিশেলে একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে সারের বিশাল কারখানা, অসংখ্য রাইসমিল, কর্মচঞ্চল বাণিজ্যবন্দর। এখন সময় এই অর্থনৈতিক শক্তিকে পরিকল্পিত রূপ দেওয়ার—গড়ে তোলার একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শিক্ষা ও শিল্প নগরী’।
তার রূপরেখা অনুযায়ী—প্রথমে, কারিগরি ও কৃষিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কৃষি ইনস্টিটিউট, পলিটেকনিক ও হাইটেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন হবে। দ্বিতীয়ত, সারের কারখানা ও রাইসমিল ঘিরে একটি বিস্তৃত শিল্পজোন গড়ে তোলা হবে, যাতে পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে অভাবনীয় গতি আসবে। এতে কেবল কৃষক নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি পাবে টেকসই গতি ও কর্মসংস্থান।
তৃতীয়ত, এই শিল্প-নগরীর মধ্যে গড়ে তোলা হবে একটি একাডেমিক কমপ্লেক্স, যেখানে থাকবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার সমন্বিত শিক্ষা-ভবিষ্যৎ। তিনি বলেন—“শুধু বই নয়, হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে চাই। শিক্ষার্থীরা যেন মাঠে কাজ শিখে—ঘরে জ্ঞান ফেরে।”
বিশ্বমঞ্চে হাফেজ তৈরির পেছনে যে মানুষটি দুই যুগ ব্যয় করেছেন, ১২৩টি দেশকে পেছনে ফেলে তার ছাত্ররা হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—তিনি এবার সরাইল-আশুগঞ্জকে গড়ে তুলতে চান একটি ‘জ্ঞান ও উৎপাদনের হাব’। এখানে জন্ম নেবে একদিকে হাফেজ, আলেম, মুফতি—অন্যদিকে উদ্যোক্তা, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা।
“আমি রাজনীতি করি না, আমি দায় অনুভব করি,”—এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে শায়খ নাছিরী বলেন, “এই অঞ্চল শুধু একটি সংসদীয় আসন নয়—এটি হতে পারে সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের রোল মডেল। ইনশাআল্লাহ, আমি নির্বাচিত হলে এই স্বপ্ন বাস্তব করে দেখাবো।”