সিংড়ায় হতদরিদ্র ছপুরজানের মানবেতর জীবনযাপন: এক মর্মান্তিক গল্প
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানবেতর জীবনযাপন করছেন নাটোরের সিংড়ার ডাহিয়া গ্রামের ছপুরজান ও তার স্বামী কালাম ফকির। মাত্র পাঁচ মাস আগে, মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ছপুরজান। ভেঙে যায় তার এক পা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ছপুরজান তখনই হারান চলার শক্তি।
স্বামী কালাম ফকির একজন হতদরিদ্র মৎস্যজীবী। সংসারে একমাত্র অবলম্বন ছিল জলাশয়ে মাছ ধরে বিক্রি করে দিনযাপন। তাও আর সম্ভব হচ্ছে না। ছপুরজানের চিকিৎসার খরচ মেটাতে তারা বিক্রি করে দিয়েছেন শেষ সম্বল, নিজেদের বসতবাড়ি। মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় সেই বাড়িটি বিক্রি করে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয় স্ত্রীকে। কিন্তু এখনও চিকিৎসা বাকি। প্রয়োজন আরও অন্তত ১ লাখ টাকা।
এই দম্পতির সংসারে ছিল তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। কিন্তু তারা সবাই এখন নিজেদের জীবনে ব্যস্ত। কেউ গ্রামে থাকেন না, এমনকি অনেকদিন ধরে খবরও রাখেন না মা-বাবার। এই নিঃস্ব দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর যেন কেউ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি অন্ধকার ঘরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ছপুরজান ও তার স্বামী কালাম ফকির। তাদের চোখে হতাশা, কষ্ট আর অবহেলার দীর্ঘ ছায়া।
কালাম ফকির বলেন,
“বাড়ি বিক্রি করে বউয়ের চিকিৎসা করিয়েছি, এখন আর কোনো পথ খোলা নেই। প্রতি মাসে ৫-৬ হাজার টাকার ওষুধ লাগে, কিন্তু সংসারে চাল নেই, বাজার নেই। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে কাটে দিন।”
ছপুরজান বলেন,
“আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও আর নেই। সকলের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাকে একটু সাহায্য করুন। আমাদের এই কষ্ট যেন কেউ না দেখে থাকতে পারে না।”
একটি দুর্ঘটনা কিভাবে একটি অসহায় পরিবারকে পথে বসিয়ে দিতে পারে – তার জ্বলন্ত উদাহরণ ছপুরজান ও কালাম ফকিরের জীবন। এই মুহূর্তে সমাজের সহৃদয় মানুষের সহায়তা ছাড়া তাদের জীবনে কোনো আশার আলো নেই।
(প্রকাশে সহযোগিতা করুন। হয়তো একটি সাহায্য, একটি শেয়ার—বাঁচাতে পারে দুটি জীবন।)