ফিচার ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
অতিরিক্ত বা সীমাহীন সম্পদ মানুষের মানসিকতায় মারাত্মক ও বিকৃত প্রভাব ফেলে। এটি মানুষকে চরমপন্থি বা উগ্র শ্রেষ্ঠত্ববাদে পরিচালিত করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট নাওমি ক্লাইন। সম্প্রতি প্রকাশিত তার নতুন বই ‘এন্ড টাইমস ফ্যাসিজম’-কে কেন্দ্র করে এক আলোচনায় বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের অতি-ধনী ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আস্ট্রা টেলরের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা এই বইটির শুরুতে ২০২৬ সালের সুইজারল্যান্ডের ড্যাভসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ নামে দুই ব্যক্তি ‘নিউ গাজা’ নামে একটি সুরক্ষিত ও প্রাচীরঘেরা ধনী নগরীর পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। ক্লাইনের মতে, তৎকালীন গাজার পরিস্থিতি এবং সেখানে মানবসৃষ্ট সংকটকে পুঁজি করে অতি-ধনীরা আবাসন বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
ড্যাভসের সেই আসরে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা পুনর্নির্মাণের জন্য তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন। তবে পরের সাত মাসে এর মাধ্যমে বাস্তবিক কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি। ক্লাইন বলেন, বিশ্বজুড়ে এত বেশি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটছে যে মানুষ এসবের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারছে না। সেখানে কার্যত জাতিসংঘকে বেসরকারীকরণের মতো একটি উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বইটিতে লেখকদ্বয় বর্তমান বিশ্বের নানা প্রান্তে কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর উত্থানকে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনায় অনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি, রাশিয়ায় স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিলুপ্তি, ইতালিতে অভিবাসী-বিরোধী নয়া-ফ্যাসিবাদ এবং মোদির ভারতে ইসলামোফোবিয়া। ক্লাইন উল্লেখ করেন, এই নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের সমর্থকরা জলবায়ু পরিবর্তন ও আর্থিক বিশৃঙ্খলা থেকে তৈরি হওয়া সংকটকে একটি উত্তর-গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছে, যেখানে কেবল অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তি টিকে থাকবে।
প্রযুক্তি খাতের শতকোটিপতিদের পরিকল্পনা সম্পর্কে নাওমি ক্লাইন বলেন, এসব অতি-ধনীরা কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সম্পূর্ণ হিসাব-নিকাশ করে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার জন্য বিপর্যয় পরবর্তী পরিকল্পনায় মত্ত। তারা জলবায়ু সংকট বা সামাজিক বিশৃঙ্খলাকে নিজেদের সুবিধা অর্জনের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
নব্য-উদারবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে ক্লাইন জানান, অতীতে ড্যাভস বা অন্যান্য বৈশ্বিক মঞ্চে ধনীরা তাদের সম্পদ দিয়ে মানবকল্যাণ করার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা সেই লোকদেখানো ভানটুকুও ছেড়ে দিয়েছে। উল্টো মিয়ামির এক অনুষ্ঠানে টেক উদ্যোক্তা পিটার থিল সামাজিক দায়বদ্ধতা ও স্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে ‘শত্রু’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
সংকটময় বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নাওমি ক্লাইন সতর্ক করেন যে, বারবার ঘটে যাওয়া জলবায়ু ও সামাজিক বিপর্যয় মানুষকে একটি গোলকধাঁধার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। ইতিহাস থেকে কেবল পাঠ নেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং বর্তমান সংকটগুলো অতীতের চেয়ে আরও বেশি তীব্রতা, গতি ও সহিংসতা নিয়ে সামনে আসছে বলে তিনি জানান।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।