অনিয়মের অভিযোগ ও মামলা চলমান থাকলেও “ইউএনও থেকে এডিসি পদে পদোন্নতি পেলেন শাহীনা নাছরিন

অভিযোগগুলোর বিষয়ে শাহীনা নাছরিন বলেন, ইমাম নিয়োগের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে। গরুর বাজারের ইজারার সময় কিছু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, তখন আমি কঠোরভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন সুপারিশ ছিল, তা অস্বীকার করছি না; তবে কোনো অনিয়ম হয়নি। এছাড়াও অন্যান্য যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, তা সত্য নয়। সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
29411
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে চলতি দায়িত্বে থাকা শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকার পরও সম্প্রতি তাকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ৩৪তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে পদোন্নতি পেয়ে ২০২৪ সালের ০৭ নভেম্বর নাসিরনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর উপজেলা মডেল মসজিদে নিয়োগ, সরকারি লবণ বিতরণ, জলমহাল ও পশুর হাট ইজারা, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কয়েকটি নিয়ে আদালতে হয়েছে মামলাও। এর মধ্যে নাসিরনগর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে খতিব, ইমামসহ কয়েকটি পদে নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে চাকরিপ্রার্থী গোলাম মোস্তফা ইউএনও শাহীনা নাছরিন, জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন।

গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, মসজিদের ইমাম নিয়োগের মতো স্পর্শকাতর কাজেও এমন দুর্নীতি খুবই নিন্দনীয়। ইমাম হিসেবে যাকে নির্বাচিত করা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় তিনি পেয়েছিলেন ৩৩ নম্বর আর আমি পেয়েছিলাম ৫১ নম্বর। পরে মৌখিক পরীক্ষায় আমি অধিকাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পরও আমাকে কোনো নম্বরই দেওয়া হয়নি, বিপরীতে তাকে মৌখিক পরীক্ষায় ১৮.৫ নম্বর দিয়ে মোট ৫১.৫ নম্বরে নির্বাচিত দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইউএনও শাহীনা নাছরিনের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। আমরা শুনেছি, মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগগুলো দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর পাবলিক লাইব্রেরিতে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে ১৪ বছরের পুরোনো কর্মচারীকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়া পরিমল দাস বলেন, ৩৮ বছর যাবত আমি নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম। লাইব্রেরির শুরুর দিন থেকে আমি এখানে দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। এ বছরের জানুয়ারি মাসে হঠাৎ একদিন ইউএনও স্যার আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে বলেন। আমি বাধ্য হয়ে অব্যাহতি নিলাম। পরে আমার স্থানে কোনো রকমের বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই একজনকে নেওয়া হয়েছে। শুনেছি, এখানে ভালোই লেনদেন হয়েছে।

২০২৫ সালের ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় বিতরণের জন্য সরকারি ২৪০ বস্তা লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই লবণ বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী এসব লবণ চুরি করে বাজারে বিক্রির সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চুক্তিভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী রকিবুল হাসানকে দায়ী করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারীর যোগসাজশে বিভিন্ন পুরোনো মূল্যবান যন্ত্রাংশও গোপনে বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এসব বিষয় ইউএনও শাহীনা নাছরিন জানার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে তৎকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রকিবুল হাসান জানান, লবণ চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের বাঁচাতে গিয়ে আমাকে মানসিক রোগী সাজিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়। ওরা যখন লবণসহ ধরা পড়ে, তখন আমি ইউএনও ম্যাডামের বাসভবনেই ছিলাম। এ ঘটনার পর আমাকে চুপ থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে দেখি, আমারই চাকরি নাই। আর স্থানীয়রা যাকে লবণের গাড়িসহ বাজারে হাতেনাতে আটক করেছিল, তার বিরুদ্ধে ইউএনও ম্যাডাম তখন কোনো ব্যবস্থাই নেননি। এর কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসনের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ অফিসের কয়েকজন কর্মচারী মিলে চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছিলাম। এরপর থেকেই ওই চক্রের হোতারা আমার পেছনে লেগেছিল।

নাসিরনগরের বুড়িশ্বর ইউনিয়নের দক্ষিণ সিংহগ্রাম মৌজার ০.২৯ একর আয়তনের একটি খাস পুকুর ১৪৩২ থেকে ১৪৩৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এ ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, একটি অকার্যকর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সরকারি কর্মচারীর যোগসাজশে পুকুরটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকটি খাস পুকুরের ক্ষেত্রেও লেনদেনের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে ইউএনও শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বুড়িশ্বর গ্রামের ভুক্তভোগী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, বুড়িশ্বর গ্রামের ৮২৮৭ দাগের ১.১৫ একর আয়তনের খাস পুকুরটি কোনো রকমের আইনের তোয়াক্কা না করে মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিন বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে পুকুরপাড়ের অন্তত ১০টি পরিবার তাদের চলাচলের নিজস্ব রাস্তা হারিয়েছে। আইনে আছে, পুকুর ইজারা দিতে গেলে পুকুরের পাড় থাকতে হবে, পাড়ে বনায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং পাড়ের বাসিন্দাদের কোনো রকমের ক্ষতি হওয়া যাবে না। সেখানে পাড় থাকা তো দূরের কথা, পাড়ে বসবাসকারী মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা, মক্তবসহ সরকারি রাস্তা পর্যন্ত ভেঙে পুকুরের ভেতর চলে যাওয়ার পরও কোনো রকমের সীমানা নির্ধারণ না করেই ওই পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে যোগাযোগের রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় বুড়িশ্বর গ্রামের পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার অনেকে কৃষিকাজ প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ইউএনও শাহীনা নাছরিনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগও জানিয়েছিলাম। তিনি এসব বিষয়ে কোনো তোয়াক্কা না করেই পুকুরটি অন্য গ্রামের লোকদের ইজারা দিয়েছেন।

ইউএনও শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে বিভিন্ন জলমহাল ইজারা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, নাসিরনগরের মনোহরপুর এলাকার বিল কুপা ফিসারিকে ৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ইজারা মূল্যে মনোহরপুর অগ্রগামী যুব মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতিকে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত জেলেদের ইজারা না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে একটি প্রভাবশালী চক্রকে এই বিলের ইজারাটি পাইয়ে দিয়েছেন তৎকালীন উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহীনা নাছরিন।

এ বিষয়ে মনোহরপুর প্রগতি যুব মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক বিশাম্ভর দাস বলেন, ৮ লাখ ১১ হাজার টাকা ইজারা মূল্যে বিল কুপা নামক জলমহালটি ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদন দিয়েছিলাম। কিন্তু ইউএনও স্যার আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে ঘুষ খেয়ে বিলটিকে একটি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিয়েছে। তার নির্দেশে ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে পাতানো তদন্ত দেখিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভুয়া প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। যাদের ইজারা দেওয়া হয়েছে তারা কেউই প্রকৃত জেলে না, তারা বিলটা ইজারা নিয়ে বেশ কয়েকজনের কাছে সাবলিজ দিয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ মে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আটটি অস্থায়ী গবাদিপশুর হাট ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, শিডিউল কিনলেও অনেক ইজারা প্রত্যাশীকে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি।

গোকর্ণ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণশাসন গ্রামের অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য ৩০ জন শিডিউল কিনলেও চারজনকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, সেখানে প্রাথমিক দর ৩৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও ৪৬ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দর দেখিয়ে জিলু রহমান নামে একজনকে ইজারা দেওয়া হয়। এছাড়া নাসিরনগর সদরে অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য ৬০ জন শিডিউল কিনলেও মাত্র পাঁচজনকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে ৫০ হাজার টাকা প্রাথমিক দর থেকে ৫৩ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দর দেখিয়ে তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নানকে ইজারা দেওয়া হয়। একইভাবে চাপরতলা ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাটে ২৩ জন শিডিউল কিনলেও সিন্ডিকেট করে চারজনকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে ৩১ হাজার টাকা প্রাথমিক দর থেকে ৩৪ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দর দেখিয়ে নুরুল হককে ইজারা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, অস্থায়ী বাজারগুলো ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক দরের চেয়ে সামান্য কিছু টাকা বেশি দেখিয়ে ইজারা দিলেও প্রতিটি ইজারায় লাখ টাকার বাণিজ্য হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটিই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করা হয়েছে। ইউএনও নিজেই সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। তার সরাসরি হস্তক্ষেপেই সব হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি জায়গায় নির্ধারিত স্থানে বাজার না বসিয়ে খেয়ালখুশিমতো যেখানে-সেখানে বসানো হয়েছিল বাজার। নাসিরনগর সদরের বালুর মাঠে অস্থায়ী বাজারের ইজারা দেওয়া হলেও বাজার বসানো হয়েছিল নাসিরনগর সরকারি কলেজের মূল ক্যাম্পাসে। যা নিয়ে স্থানীয়রা ব্যাপক সমালোচনা করলেও এসব বিষয়ে ইউএনও কোনো ব্যবস্থাই নেননি।

এছাড়া স্থায়ী গরুর বাজারের ইজারা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ইউএনও শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে। ফান্দাউক ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলমগীর শাহ বলেন, ফান্দাউকের স্থায়ী গরুর বাজারের ইজারা নেওয়ার জন্য আমরা ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার দরপত্র জমা দিয়েছিলাম। ইজারা প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়, এ বিষয়ে আমি ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আমাকে আমার প্রতিযোগীদের সঙ্গে মিলতে বলেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি চলে আসি। শেষপর্যন্ত লেনদেনের বিনিময়ে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকায় আমাদের প্রতিযোগীকে বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়াও ইউএনও শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে সরকারি ডোবা ভরাটে সহযোগিতা, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়ম, ইউএনওর সরকারি বাসভবনের সামনের পুকুর সংস্কারের অর্থে নয়ছয়, কোটেশনের কাজে বাণিজ্য, কৃষিজমি ভরাট কিংবা পলিমাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো গোপনে অনুমোদনের নামে বাণিজ্যে জড়ানোসহ উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের মতো অসংখ্য অভিযোগও রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়াদের একজন গোকর্ণ ইউনিয়নের তানভীর হাসান জানান, গোকর্ণ ইউনিয়নের জন্য যাকে নির্বাচিত করা হয়েছে, সে অনলাইন এবং মৌখিক পরীক্ষার কোনোটাতেই পাস করতে পারেনি। এ ধরনের কাজে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাও ছিল না। তবু তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পরীক্ষায় ফেল করাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধভাবে করা হয়েছে।

শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে চাতলপাড় ইউনিয়নের ফকিরদিয়া চক বাজার সংলগ্ন সড়ক নির্মাণের অর্থ লোপাটেরও। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ টাকার মধ্যে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার নামমাত্র কাজ করে লোপাট করা হয়েছে পুরো অর্থই।

এ বিষয়ে ফকিরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইমরানুল হক মামুন বলেন, একটি সড়কের জন্য গ্রামের শত শত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গ্রামবাসী বহু চেষ্টা-তদবির করে সড়কটি নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল। বরাদ্দের পর দীর্ঘ সময়েও কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়রা একাধিকবার ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে দুই ধাপে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার কাজ করেই কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার। এবিষয়ে ইউএনওর কাছে গেলে আমাদের বিভিন্ন নয়ছয় বোঝানোর চেষ্টা করেছে। আমরা একটা রাস্তার অভাবে লাশটা পর্যন্ত ঠিকভাবে দাফন করতে পারি না।

এ ছাড়া শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। এদিকে শাহীনা নাছরিনকে সম্প্রতি গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে গত ২৫ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে শাহীনা নাছরিন বলেন, ইমাম নিয়োগের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে। গরুর বাজারের ইজারার সময় কিছু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, তখন আমি কঠোরভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন সুপারিশ ছিল, তা অস্বীকার করছি না; তবে কোনো অনিয়ম হয়নি। এছাড়াও অন্যান্য যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, তা সত্য নয়। সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত আছি। তার তো বদলি হয়ে গেছে এখন আর কি করা সম্ভব। আর মামলা একটি চলমান প্রক্রিয়া, মামলার বিষয়টি কোর্ট দেখবে। মামলার সাথে বদলির কোন সম্পর্ক নেই।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ