বাংলাদেশ ডেস্ক: ২ নভেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ন
চলমান শ্রম অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই শ্রমিকেরা যাতে নতুন ও বর্ধিত মজুরি পেতে পারেন, সে লক্ষ্য নিয়ে মজুরি বোর্ডে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার এসব কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নতুন মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিক নেতারা বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত মজুরিকাঠামো নির্ধারণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং সামগ্রিক শিল্প পরিস্থিতি পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া আবশ্যক।
মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নেতারা জানান, এ বিষয়ে কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। বরং দেশের সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নিয়ে একটি সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং শিল্প খাতে তৈরি হওয়া অসন্তোষের পরিস্থিতিতে গত রোববার সরকার ছয় সদস্যের নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম শামছুদ্দিন ও আসিফ আইয়ুব। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আখতার ও আনোয়ার হোসাইন। এছাড়া নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে স্থান পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের আটক এবং আইনি হয়রানির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বাবুল আখতার অভিযোগ করেন, মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অজুহাতে অনেক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া আটক শ্রমিক ও নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান বাবুল আখতার। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানানো হয়।
শিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, কারখানা মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের যৌথ সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
সূত্র: সমকাল

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।