আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতে ইরান সফরে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তেহরানে তারা ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নিচ্ছেন। তবে বৈঠকটি ঠিক কোন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি কানি।
বাঘেরি কানি তার সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে এই আলোচনাটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। বৈঠকে অংশগ্রহণের এই প্রস্তাবটি গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে। সৌদি আরব বর্তমানে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ইতোপূর্বে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
একই সময়ে ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার মধ্যেই রিয়াদ, আঙ্কারা, ইসলামাবাদ এবং তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এক টেবিলে বসতে যাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতা অবসানে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। অঞ্চলটির আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপ্রণালি বর্তমানে ইরান ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করে আসছে। এর বিপরীতে নৌপথে পাল্টা অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।