ফিচার ডেস্ক: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের উপন্যাস ‘মা’ পাঠকদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে চলেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া বীর শহীদদের পাশাপাশি তাঁদের মায়েদের নিরব বেদনা ও ত্যাগের গল্পও সমানভাবে উপস্থিত। সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না তাবাসসুম আরিশার এক পর্যালোচনায় উপন্যাসটিকে কেন্দ্র করে মাতৃত্ব ও দেশপ্রেমের এই গভীর অনুভূতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছেন শহীদ আজাদ ও তাঁর মা সাফিয়া বেগম। উপন্যাসে অত্যন্ত আবেগময়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে একজন মা তাঁর আদরের সন্তানকে দেশের স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করেছেন। দেশের কাছে আজাদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ হলেও, একজন মায়ের কাছে তিনি ছিলেন তাঁর পুরো পৃথিবী ও বেঁচে থাকার মূল আনন্দ।
বইটির পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়, আনিসুল হকের লেখার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো তিনি ইতিহাসকে কেবল ঘটনাবলি হিসেবে উপস্থাপন করেননি; বরং ইতিহাসের আড়ালে থাকা মানুষগুলোর আবেগ ও অনুভূতিকে অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছেন। এটি প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধ কেবল বিজয়ের আনন্দ নয়, এটি অসংখ্য পরিবারের বিচ্ছেদ এবং অসমাপ্ত স্বপ্নেরও গল্প।
পর্যালোচকের মতে, আমরা স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বের সঙ্গে ধারণ করলেও, এর পেছনে মায়েদের যে অসীম আত্মত্যাগ রয়েছে তা অনেক সময় গভীরভাবে অনুভব করা হয় না। বিশ্ব হয়তো বীর শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ দিয়ে সম্মান জানায়, কিন্তু সন্তানহারা মায়েদের বুকের ভেতরের শূন্যতার কোনো পরিমাপ বা স্মৃতিস্তম্ভ হয় না।
‘মা’ উপন্যাসটি পাঠকদের মনে করিয়ে দেয় যে কিছু ত্যাগের মূল্য কোনো কিছুর বিনিময়ে শোধ করা সম্ভব নয়। এটি কেবল একটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস নয়, বরং এটি মাতৃত্বের গভীরতা, ভালোবাসা ও দেশের প্রতি অবিচল দায়ের এক অনন্য দলিল যা পাঠককে আবেগপ্লুত করার পাশাপাশি ইতিহাস উপলব্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।