
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেই সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি একদিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের জন্য বিএনপিকে আলোচনার নেতৃত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে সরকারকেও রেফারির ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জরুরি আদেশ জারি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন—এই তিন দাবিতে যুগপৎ রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে নতুন কর্মসূচি নিয়েছে দলটি।
গত ৩ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানালেও জামায়াত সেই আহ্বানকে সরকারকে চাপে রাখার রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ২টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক পল্টন মোড়ে আটটি রাজনৈতিক দলের যৌথ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, “সরকার যদি দাবি না মানে, তাহলে ১১ নভেম্বর ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকাকে জনতার নগরীতে পরিণত করা হবে।”
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “আলোচনার পথ খোলা। আমরা আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। সরকারকে রেফারির ভূমিকায় থেকে রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।”
তিনি জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার রূপরেখা তৈরির জন্য জামায়াত দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে—নায়েবে আমির ডা. তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদকে নিয়ে। এই কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের প্রস্তাব নিয়ে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিন প্রতিশ্রুতি সরকারের মূল অঙ্গীকার। কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়নে আমরা সরকারের গড়িমসি এবং বিএনপির অবস্থানগত জটিলতা দেখছি। তাই ১১ নভেম্বরের জনসভা থেকে নতুন ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
জানা গেছে, গত ৯ নভেম্বর বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে আটটি রাজনৈতিক দলের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জনসভা সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি ও দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, “সরকার আলোচনার আহ্বান জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি, এখন বাস্তব উদ্যোগ চাই। গণভোটের ভিত্তিতেই জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন সমাধানের পথ হতে পারে।”
খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরও একই সুরে বলেন, “সরকারের আহ্বান থাকলেও বাস্তব প্রতিক্রিয়া নেই। তাই যুগপৎ সঙ্গীরা মিলেই কর্মসূচি দিচ্ছে। জনসভা থেকেই সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে—ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামী এখন দ্বিমুখী কৌশলে চলছে—একদিকে আলোচনার পথে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে যুগপৎ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখছে। ১১ নভেম্বরের জনসভা এই দ্বৈত কৌশলেরই প্রকাশ ঘটাবে।
