ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

লেখক: লিটন হোসাইন জিহাদ
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন ধরনের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। তবে তারা বলছে, চূড়ান্ত হামলার সিদ্ধান্ত এখনো মানুষের হাতেই রয়েছে। খবর আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বুধবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, “আমাদের যোদ্ধারা বিভিন্ন উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এসব ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে, ফলে আমাদের নেতারা দ্রুত ও আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—যা শত্রুর প্রতিক্রিয়ার আগেই কার্যকর করা সম্ভব।”

কুপার আরও বলেন, “কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হবে, কখন করা হবে কিংবা করা হবে কি না—এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সব সময় মানুষেরাই নেবে। তবে উন্নত এআই প্রযুক্তি এমন অনেক প্রক্রিয়াকে কয়েক সেকেন্ডে সম্পন্ন করতে পারে, যেগুলো আগে করতে ঘণ্টা বা কখনও কয়েক দিন সময় লাগত।”

এদিকে দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে বোমা হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু—যাদের বেশিরভাগই শিশু—ঘিরে স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১,২৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ মানুষের হাতেই থাকে, তবুও যুদ্ধে এআই ব্যবহারের বিষয়ে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েল ব্যাপকভাবে এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধে ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ইরানে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন এবং ৭৭টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় তেলের ডিপো, বিভিন্ন রাস্তার বাজার, ক্রীড়া ভেন্যু, স্কুল এবং একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সামরিক ব্যবহারের জন্য আরও উন্নত প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ইরানে হামলার সময়ের মধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক-এর প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই কোম্পানিটি তাদের এআই মডেলকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা গণ নজরদারিতে ব্যবহার না করার শর্ত দিয়েছিল।

পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অ্যানথ্রপিককে “সরবরাহ চেইন ঝুঁকি” হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করলে প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এর ফলে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের সরাসরি বা পরোক্ষ ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

গত সপ্তাহে পেন্টাগনের মুখপাত্র কিংসলে উইলসন এক বিবৃতিতে বলেন,
“অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’সহ বিশ্বজুড়ে চলমান মিশনে যুক্তরাষ্ট্রের যোদ্ধারা কখনোই কোনো নির্বাচিত নয় এমন প্রযুক্তি কোম্পানির নির্বাহীদের সিদ্ধান্ত বা সিলিকন ভ্যালির মতাদর্শের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরাই সিদ্ধান্ত নেব, আমরাই প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করব, এবং আমরাই জয়ী হব।”