— বিজ্ঞাপন —

ইসরায়েলের নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের হিসাব, এগিয়ে কে?

ইসরায়েলের নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের হিসাব, এগিয়ে কে?
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোট গণনা এগোনোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট এগিয়ে রয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে প্রায় ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৯টি। আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেতে পারে ১৭টি আসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোট গণনা চলমান থাকায় আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে পূর্বাভাস অনুযায়ী এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর জোট এখনো এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অবস্থানে নেই।

নির্বাচনের আগে দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও ভোট গণনার অগ্রগতিতে বিরোধী জোট প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের আরব দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে ইসরায়েলের বহু ইহুদি রাজনৈতিক নেতার আপত্তি রয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। জোট গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে অথবা নতুন নির্বাচন না হলে এ সময়েও তাঁর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ রয়েছে।

বুধবার ভোরে জেরুজালেমে নিজের দল লিকুদের নির্বাচনী কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি একটি শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। বক্তব্যে ইসরায়েলের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের অস্তিত্বগত হুমকি চিরতরে দূর করতে ইসরায়েলের সামনে ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। এ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।

এর আগে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখার পক্ষে ইসরায়েলি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরানে ‘কাজ শেষ করতে’ দুই নেতা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। বুধবার টেক্সাসে এক নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু ভালো করেছেন এবং তাঁর সমর্থন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর জন্য সহায়ক হয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও নেতানিয়াহু জনগণের সমর্থন হারিয়েছেন। এ কারণে তাঁকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজেনকোট বলেন, তাঁদের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা। রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার না করতেও নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেন তিনি।

নির্বাচনের অনিশ্চিত ফলের প্রভাব পড়েছে ইসরায়েলের আর্থিক বাজারেও। বুধবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা শেকেলের দর প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে তেল আবিবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোও ৩ শতাংশের বেশি পড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে লেবানন ও ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গেও যুক্ত হয়।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বিপুল প্রাণহানির ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরায়েলে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলছে; এসব মামলাকে তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে আসছেন।

এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের মধ্যেও ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্য ছিল। দেশটির জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি হলেও ঐতিহাসিকভাবে আরব দলগুলো সরকারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়েছে।

নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ১৭টি আসন তাদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আরব দলগুলোর নির্বাচনী কার্যালয়ে প্রাথমিক পূর্বাভাস প্রকাশের পর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। জোটটির প্রার্থী ফাতেন গাত্তাস বলেন, তাঁরা দখলদারত্ব ও বর্ণবাদ প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইসরায়েলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবেন।

২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নেতানিয়াহু দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের নেতৃত্বে রয়েছেন। একপর্যায়ে বিরোধী জোটের কাছে ১৮ মাসের জন্য ক্ষমতা হারালেও পরে আবার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এবারের নির্বাচনে তাঁর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা থেকে পিছিয়ে থাকলেও বিরোধী শিবিরের আসনসংখ্যা এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের জটিলতা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗