আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ন
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া আবারও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) ইসলামাবাদে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আগামী ২০ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ হবে কি না, তা সরকারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে।
নির্বাচন কমিশন ইসলামাবাদে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে। কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আপাতত বহাল থাকা ‘লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট ২০১৫’-এর অধীনেই নির্বাচনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের তালিকাও প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার ইসলামাবাদের জন্য নতুন প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকারের কাঠামো তৈরি করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহসান ইকবাল-এর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি ইসলামাবাদের জন্য প্রদেয় ২৩ সদস্যের প্রাদেশিক ধাঁচের একটি অ্যাসেম্বলি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সংরক্ষিত আসনের একটি অনুপাত অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে শহরে তিনটি টাউন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই নতুন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এখনো বিদ্যমান আইনের বিকল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ নেয়নি।
ইসলামাবাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দীর্ঘ দিন ধরে স্থগিত রয়েছে। এ পর্যন্ত ইসলামাবাদে ছয়বার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চারবার নির্বাচনী তফসিল বাতিল করতে হয়েছে। রাজধানীর সর্বশেষ নির্বাচিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছিল। এর ফলে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে শহরের বাসিন্দারা তাদের নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধির সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
নির্বাচন আয়োজনে দীর্ঘ বিলম্বের মূল কারণ ছিল বার বার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউসি) সংখ্যা পরিবর্তন করা। ইসলামাবাদে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৫০টি থেকে বাড়িয়ে ১০১টি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা আবারও বাড়িয়ে ১২৫টি করা হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে নতুন আইন পাসের কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালেও আইনি সংশোধনী আনার কারণে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে জারি করা প্রেসিডেন্সিয়াল অধ্যাদেশটির মেয়াদ গত ৬ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গেছে।
বর্তমানে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিধিমালা বা রুলস অনুমোদন না হওয়া। এই বিধিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো আটকে রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একাধিক স্মরণপত্র পাঠিয়েছে, যাতে করে ২০ ডিসেম্বর নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।