যুক্তরাজ্যের উত্তর সাগরে অবস্থিত সবচেয়ে বড় অনুদ্বঘাটিত তেলক্ষেত্র ‘রোজব্যাঙ্ক’ এখন দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি এবং জলবায়ু নীতির মূল কেন্দ্রে চলে এসেছে। উত্তর অ্যাটলান্টিকের উত্তাল সাগরে অবস্থিত এই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। একই সঙ্গে ক্রিসমাসের আগেই এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।
রোজব্যাঙ্ক প্রকল্পটিতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৫০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে, যা আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম। শেটল্যান্ড থেকে ৮০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই প্রকল্পে ফ্লোটিং প্রোডাকশন, স্টোরেজ অ্যান্ড অফলোডিং (এফপিএসও) জাহাজ ‘পেট্রোজার্ল রোজব্যাঙ্ক’-এ অবস্থান করছেন কর্মীরা। সেখানে প্রায় ১২২ জন কর্মী দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাদের অনেকেই মনে করেন এই প্রকল্পের অনুমোদন তাদের কাজের নিশ্চয়তা ও অবসরকাল পর্যন্ত কর্মসংস্থান জোগাবে।
যাইহোক, ২০২৩ সালে কনজারভেটিভ সরকারের অধীনে এই প্রকল্পে প্রাথমিক সম্মতি দেওয়া হলেও ২০২৫ সালে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও আপলিফটের চ্যালেঞ্জের মুখে আদালত জানায় যে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে জলবায়ুতে যে প্রভাব পড়বে তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করায় এই অনুমোদন বেআইনি ছিল। বিচারক লর্ড এরিখট নির্দেশ দেন, চূড়ান্ত তেল ও গ্যাস উত্তোলনের বাইরে অন্যান্য কাজ অব্যাহত রাখা যাবে, তবে সরকার ও নিয়ন্ত্রকদের বিবেচনা করার জন্য বিস্তারিত পরিবেশগত মূল্যায়ন জমা দিতে হবে।
পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, যুক্তরাজ্যের শক্তির ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত নবায়নযোগ্য শক্তি। ‘আপলিফট’-এর নির্বাহী পরিচালক টেসা খান জানান, রোজব্যাঙ্ক অনুমোদন করা হলে তা যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য একটি ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাকে মুনাফা এনে দিলেও তা জলবায়ু সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। অন্যদিকে, রোজব্যাঙ্কের ৮০ শতাংশের মালিকানা থাকা আদুরা (Adura)-এর প্রধান নির্বাহী নীল ম্যাকক্যালক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এখান থেকে সংগৃহীত গ্যাস যুক্তরাজ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা হাজার হাজার ঘরের জ্বালানি চাহিদা মেটাবে।
বর্তমানে জ্বালানি সচিব মিয়াটা ফাহনবুলের টেবিলে ফাইলটি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে জেকড (Jackdaw) গ্যাস ক্ষেত্রে উৎপাদনের সম্মতি দেওয়া হলে রোজব্যাঙ্কের কর্মীরা কিছুটা উৎসাহিত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা কাজ করছে। প্রচণ্ড ঝড়-বাতাস এবং উত্তাল সাগরের বৈরী পরিবেশের মধ্যে কাজ করা এসব কর্মীরা এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।